আপনার স্বাস্থ্য

ডাঃ হেলাল কামালি

কোষ্ঠকাঠিন্য বা Constipationem ) পরিপাকতন্ত্র – পর্ব ৮ ( ক )

Ref: 1400 A.D fellowship research, constipation Research Program ( Uni Bristol Medical ) Bowel issues in NMO | NMO NHS | NMO Advice & Support UK, Research project Professor Charles Knowles ( Kings collage, London -Created by : Dr.H.Kamaly  )

constipation-remedies

কোষ্ঠকাঠিন্য বা কন্সটিপেশন একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হচ্ছে দম বন্ধ করে অন্ত্রে চাপ প্রয়োগ করা । সাধারন ভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য বা কন্সটিপেশন বলতে যা বুজায়, যে কোন কারনে ( অসুখ জনিত, স্নায়ু বা আঘাত জনিত, অভ্যাসগত অথবা অতিরিক্ত পরিশ্রম ইত্যাদি ) যদি মল খুব শক্ত হয়ে যায় এবং সে সময় চাপ প্রয়োগ করে ( কুথ ) মল ত্যাগ করতে হয় – তখন ই তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বা কন্সটিপেশন বলা হয় –

আমরা সাধারন খাবার খাওয়ার পর খাদ্য ও পানীয় সমুহ দীর্ঘ ১৮ ফুট লম্বা কুদ্রান্ত্র ও বৃহদ্ন্ত্র পাড়ি দিয়ে মল সমুহ কয়েক ঘন্টার জন্য মলাশয়ে ( রেক্টাম ) জমা হয় এবং একজন সুস্থ মানুষের এই সব খাবারের মূল্যবান উপাদান সমুহ অন্ত্র চুষে নিয়ে পাটিয়ে দেয় রক্ত ও অন্যান্য উপাদান তৈরি করতে, বাদবাকি অবসশিস্ট বর্জ্য পদার্থ ( মল ) যেতে সময় লাগে ৬ ঘন্টা এবং বৃহদন্ত্র ১৬ ঘন্টা নেয় খাদ্য হজম করতে। এটি পানি এবং শোষণযোগ্য সকল উপাদানকে রেক্টামে পাঠাবার আগে শোষণ করে নেয় যদি কোন কারনে সে সময় পানীয় জাতীয় পদার্থ একটু বেশী শোষণ করে তখন মল শক্ত হয়ে যায় –

মল শক্ত হওয়ার মুল কারন যে কোন কারনে যদি কোলন এবং রেক্টাম খাদ্যের পানিয় সমুহ খুব বেশি চুষে নেয় তখন খাদ্যের বর্জ্য পদার্থ সমুহ পানি শুন্য হয়ে শক্ত হয়ে পড়ে , ফলে মল শক্ত হয়ে যায় এবং মলাশয় থেকে বাহির হতে খুব কস্ট হয় । এই সমস্যা কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকলে অসুখ টি ক্রনিক কন্সটিপেশনে চলে যায়– তখন দেখা দেয় অন্যান্য লক্ষন ও সমস্যা । এটি কস্টিভনেস (costiveness) নামেও পরিচিত।

সেই হিসাবে একজন মানুষ প্রতিদিন ২/৩ বার থেকে শুরু করে সপ্তাহে তিন বারের চেয়ে কম মলত্যাগ হলে সেটিকে কোষ্ঠকাঠিন্য হিসেবে ধরা যায় । অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়মিত একবার পায়খানা হলেও যদি মল খুব শক্ত হয়ে থাকে এবং মল বাহির করার সময় বেশি চাপ দিতে হয় সেই সাথে পায়খানার রাস্থায় ব্যাথা অনুভূত হয়, থাকে ও একধরনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা একিঊট কন্সটিপেশন বলা হয়ে থাকে

এবং তা এড়াতে আগেভাগেই কিছু নিয়ম নিতি মেনে চললে কোষ্ঠ কাঠিন্য থেকে সারাজীবন ই প্রতিরোধ করে রাখা সম্বভ — ( রিসার্চ পর্বের নিয়ম অনুসারে অল্প কয়েক লাইন তুলে ধরলাম – ডাঃ হেলাল )

কারণ :

ইচ্ছা কৃত কারনে : মূলত অন্ত্রের মধ্য দিয়ে মল ধীরে গমন করার কারণেই ক্রনিক কন্সটিপেশন হয়ে থাকে। এ জন্যই মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে কোলন ও মলাশয়ে মল জমাট বেঁধে মলদ্বারে আবদ্ধতার সৃষ্টি হয় যার ফলে মল গমনের গতি অনেক সময় ধীর হয়ে যায় যা ৯০% বেলায় ইচ্ছা কৃত কারনেই হয়ে থাকে ।

520xNxconstipationstool.jpg.pagespeed.ic.2IdE8rFkzR

১- পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া , বেশি পরিমাণে প্রাণীজ প্রোটেন চর্বি ও মিষ্টি এবং ডায়েরী জাতিয় খাবার ও সেই সাথে কৃত্রিম কিছু খাবার ইত্যাদি  ঃ-

( এখানে একটা বিষয় মনে করে দিতে চাই, আমরা সবাই তাজা শাকসবজি খেতে ভালবাসি কিন্তু তাও দুই ধরনের (- আশবিহিন ও আঁশযুক্ত ) – যাহারা কন্সটিপেশনের সমস্যায় আক্রান্ত তাহরা অবশ্যই প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে রীতিমত অভ্যাস করতে হবে হবে এবং ভাল ফল পেতে হলে কম পক্ষে ৫৯ দিন অপেক্ষা করতে হবে, অবশ্য সেই সাথে , চর্বি জাতিয় খাবার, দুধ, চীজ, লাল মাংস ( যে কোন ধরনের মাংস কম খাওয়া ভাল ) , ডিম এড়িয়ে চলতে হবে ।  গৃহিণীরা একটা বিষয় সব সময় খেয়াল রাখবেন ,এইসব আঁশযুক্ত খাবার রান্না করার সময় প্রটোজোয়া এবং ছত্রাক জাতীয় জীবাণু যাতে না থাকতে পারে, ক্যামিকেল সংযুক্ত মনে করলে-  তা যেভাবে নিরমুল করা যায় সেই ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন  এবং অতিরিক্ত মশ্লা যুক্ত যেন না হয় অর্থাৎ পর্যাপ্ত ভাবে রান্না করা চাই , নতুবা কন্সটিপেশনের রোগিরা আমাশয় অথবা আই বি এস জাতীয় অসুখে আক্রান্ত হতে পারেন । সেই সাথে আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন ভাত এবং আটা পায়খানা শক্ত করেনা বরং সহজ লভ্য করে রাখে তবে ময়দা কিছুটা শক্ত করে তা সত্য  )

২- শারীরিক কাজ কর্ম থেকে নিষ্ক্রিয়তা , খাদ্য অভ্যাসের পরিবর্তন, পায়খানা করার সময় সূচির পরিবর্তন এবং কিছু বাজে বদ অভ্যাস ( তাড়াহুড়া করে মল ত্যাগ, পানীয় জাতীয় খাবার কম গ্রহন ) মানশিক বিষণ্ণতা , অতিরিক্ত রৌদ্রে চলা ফেরা করা, দৈহিক অতিরিক্ত ওজন, যৌন নির্যাতন এবং এনাল সেক্স করা অথবা যে কোন ধরনের মানসিক আঘাত ইত্যাদির কারনে হতে ঃ-
( রিসার্চ অনুসারে প্রমাণিত, – যারা শারীরিক কাজ কর্ম করেন না বিশেষ করে বেশির ভাগ সময় শুয়ে ও বসিয়ে কাঠান তাদের বেলায় কন্সটিপেশন জাতিয় সমস্যা সব সময় লেগেই থাকে – সে জন্য শারীরিক যোগ্যতা অনুসারে নিত্য কাজ কর্ম করে যাওয়া উচিৎ – মনে রাখবেন দৈহিক কাজ কর্ম অন্ত্রের খাদ্য সমুহ কে খুবী সহজে স্থানান্তরিত করে এবং কন্সটিপেশনের লক্ষন দূর করে ( বয়স্কদের বেলায় ও সমান ) অন্য দিকে প্রতিদিন প্রচুর পানি অথবা ফ্রেশ জুস জাতীয় ড্রিংক পান করা উচিৎ তখন রেক্টাম তরল পদার্থ চুষে নেওয়ার ভারসাম্যতা রক্ষা করে , অবশ্য উক্তেজক পানীয় ( চা, কপি, পিজি ড্রিংক ক্ষতিকারক ) পান না করা ভাল ।
download
– এ ছাড়াও অভ্যাসগত কারন সমুহের মধ্যে বিশেষ ভাবে লক্ষণীয় যাহারা সিগারেট পান করেন তাহাদের অনেকের নিত্য পায়খানায় যাওয়ার আগে সিগারেট পান না করলে সঠিক ভাবে পায়খানা হয়না – কারন হিসাবে দেখা যায়, সিগারেটের ধোঁয়া ভর্তি বাতাস ফুস্ফুসের ডায়াফ্রেমের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে যা অন্ত্র হতে মলাশয় পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে আর তখন মলাশয়ের প্রসারন ক্ষ্যামতা বেড়ে যায় – মুলত ইহা মারাত্মক একটা বাজে অভ্যাস , অবশ্য সেই বদ অভ্যাস দূর করার জন্য পেটের যৌগ ব্যয়ামের অনুশীলন করে নিলে কিছু দিন পর তা চলে যায় ।
– অনেকেই ভিন্ন কারনে পায়খানা ধরার সংকেত পাওয়ার পর ও ইচ্ছা করেই ঠিক সময় মত পায়খানা করতে চান না, যা কোন একসময় সেন্সুরি নার্ভ সমুহ দুর্বল হয়ে পরে এবং শেষমেশ পায়খানা ধরার সংকেতের সময় পরিবর্তন হয়ে কন্সটিপেশনে চলে যায় । ( Ignoring the urge to have a bowel movement )
ঘ- অথবা মানসিক ও পারিপার্শ্বিক কিছু দিক পরিবর্তনের ফলে – যেমন , যারা উচু বেসিন টয়লেটে ( ইংলিশ টয়লেট ) টয়লেট করে অভ্যস্ত তাহারা হঠাৎ করে নিচু বেসিন টয়লেটে টয়লেট করতে খুব কস্ট হয় তখন টয়লেটের উদ্দীপনা আসার সাথে সাথেই কস্ট মনে আসায় সেন্সুরি নার্ভের সংকেতে ব্যাঘাত ঘটে ঠিক তদ্রূপ ডিপ্রেশন জাতীয় বাজে চিন্তা টয়লেটে বসে করার অভ্যস্ত যারা তাদের বেলায় ও সমান সমস্যা দেখা দেয়
ঙ- একি ভাবে যারা টয়লেটে বসে হস্তমৈথুন জাতীয় যৌনতা করার অভ্যাস আছে তাদের বেলায় ও একি সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে এবং সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখা যায় , যারা বি- সেক্সুয়েল কাজ করতে গিয়ে পায়খানার রাস্থা ব্যবাহার করেন ( অ্যানাল সেক্স ) তাদের ! – গবেষণা অনুসারে দেখা যায় ৮০ % রেক্টাম ও পায়ু পথের ক্যানসার জাতীয় অসুখ হওয়ার মুল কারন ইহাই ( ইউরোপিয়ান দেশে প্রথম ও প্রধান কারন এটি ) অবশ্য আমাদের দেশে এর চিত্র ভিন্ন , যার প্রথম ও প্রধান কারন অর্শ বা পাইলস জাতীয় অসুখ , ইত্যাদি )

 

৩- কিছু ঔষধ সেবনের কারনে ও হতে পারে ঃ ( including prescription and nonprescription drugs ) ঃ-যেমন,

medications

এন্টাসিড ( antacids ) ঃ এলমোনিয়াম এবং ক্যালসিয়াম সংযোক্ত এন্টাসিড পেটের এসিড কে নিউট্রেলাইজ করে বিধায় রেক্টামে তরল পদার্থ সমুহের ঘাটতি দেখা দেয় বিধায় মল শুকিয়ে যায় । ( বিস্তারিত গ্যাস্ট্রিক এবং কন্সটিপেশন পর্বে )
এন্টিকলিনারজিক ( anticholinergics ) এই গ্রোফের ঔষধ অন্ত্রের সংকোচন প্রসারন কে ধমিয়ে রাখে যার কারনে অন্ত্রের নার্ভ কোষ সমুহ একধরণের সাময়িক অচেতন থাকে, বিশেষ করে অটোনারভাস সিস্টেম কে — ( চিকিৎসকরা gastritis, diarrhea, pylorospasm, diverticulitis, ulcerative colitis, nausea, and vomitin – cystitis, urethritis, and prostatitis, asthma, chronic bronchitis, and chronic obstructive pulmonary disease [COPD], Sinus bradycardia, hypersensitive vagus nerve.Insomnia, ইত্যাদি অসুখে সাময়িক ভাবে ব্যাবহার করার কথা বলে থাকেন )
খিঁচুনি রোধক ও নিদ্রা অনায়নকারী বা সাময়িক সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম অচেতন কারী ঔষধ – ( anticonvulsants ) যেমন জেনেটিক ব্র্যান্ড Clonazepam, Diazepam, Lorazepam ইত্যাদি )
খিচুনি রোধক ঔষধ বা antispasmodics —চিকিৎসকরা ফাফা অঙ্গের সংকোচন প্রসারন বন্ধের জন্য ব্যাবহার করেন ( আলসারের ব্যাথা, ডিসেন্ট্রির ব্যাথা, ডায়রিয়া অথবা একি ধরনের পেটের ফাফা নরম অঙ্গের অন্যান্য ব্যাথা বন্ধের জন্য ব্যাবহার করে থাকেন – নোস্পা, বেল্কোপেন ইত্যাদি ) যারা এই সব ঔষধ দীর্ঘ দিন ব্যাবহারে করে থাকেন তাহারা কন্সটিপেশনে অবশ্যই ভুগতে পারেন ।
ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার calcium channel blockers— চিকিৎসকরা উচ্চ রক্ত চাপ , এঞ্জিনাস এবং হার্টের অসুখে ব্যাবহার করে থাকেন ( Nicardipine, Verapamil ইত্যাদি )
প্রস্রাব ব্রিদ্দিকারক বা diuretics কিছু ঔষধ ঃ- যেমন, —Thiazide diuretics, (Esidrix or Zaroxolyn- ), -Loop diuretics (Lasix, Bumex) -Potassium- (like Aldactone, Dyrenium ) ইত্যাদি \
এ ছাড়া Antidepressants, Antiparkinson drugs,, Antipsychotic drugs, Antihistamines, Nonprescription drugs, Antihistamines, Antidiarrheal agents, Calcium supplements, Nonsteroidal anti-inflammatory agents , আয়রন সাপ্লিমেন্ট জাতীয় ঔষধ , পারকিন্সন্স ও মৃগী রোগের ঔষধ, নারকোটিক্স জাতীয় ঔষধ ( প্যাথডিন, মরফিন, কোকেন ইত্যাদি ) ইত্যাদি গ্রোফের ঔষধ ব্যাবহারে কন্সটিপেশন দেখা দিতে পারে ।
——-( বিদ্রঃ এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, যারা ক্যানসার জনিত অসুখের কারনে ঔষধ এবং ক্যামোথ্যারাপি ব্যাবহার করেন তাদের বেলায় যে কন্সটিপেশন দেখা দেয় তা কন্সটিপেশনের আওতায় পড়েনা কারন ক্যামোথ্যারাপি শেষ করার পর তা চলে যায় )

 

৪- বৃহদন্ত্র এবং মলাশয়ের যে কোন সমস্যা অথবা অসুখের কারনে ঃ

images

মলদ্বারের এবং আশেপাশের মাংসপেশীতে সমস্যা: মলদ্বারের আশেপাশের মাংসপেশীতে সমস্যা থাকার কারণে মলত্যাগে সমস্যা হয়, এবং এই জন্য ক্রনিক কন্সটিপেশন হয়ে থাকে।
এ ছাড়া অন্ত্রে টিউমার, বৃহদন্ত্র , মলাশয় অথবা পায়ু পথের টিস্যু চিড়ে যাওয়া (adhesions), অন্ত্রের নালি ছোট হয়ে যাওয়া,(colorectal stricture). , বাচ্চা প্রসব করার সময় বহদন্ত্রের সাথে সংযোক্ত স্নায়ুসমুহ চিড়ে যাওয়া, রেক্টসেল ( মলাশয় যৌন নালীর দিকে বেঁকে যাওয়া ) , ম্যাগাকোলন ( বহদন্ত্রের অসাড়তা ) , ডিস্ন্যারেজিয়া ( পেলভিকের মাংসপেশির অসাড়তা ), কোলন ক্যানসার ,কোলনিক পলিপ (Colonic polyp), অ্যানাল ফিশার বা গেজ (Anal fissure ) , অ্যানাল ফিস্টুলা / Anal fistula – পায়খানার রাস্থা এবং তার আশেপাশের ত্বকের সাথে অস্বাভাবিক সংযোগ নালী তৈরী হলে তা অ্যানাল ফিস্টুলা বলে ) অথবা অন্যান্য যে কোন কারনে অন্ত্র ব্লক হয়ে যাওয়ার কারনে কন্সটিপেশন দেখা দিতে পারে — তবে ৮০% বেলায় অর্শ রোগের কারণেই হতে দেখা যায় ।

 

৫- অন্যান্য কিছু সম্পর্কযুক্ত অসুখের কারনে হয়ে থাকে ঃ
( মলাশয় ও মলদ্বারের চারপাশের স্নায়ুর সমস্যা: স্নায়ুর সমস্যা অনেক সময় কোলন ও মলদ্বারের মাংশপেশীকে প্রভাবিত করে। এর ফলে এই মাংসপেশী সংকুচিত হয়ে যায় এবং মল অন্ত্রের মধ্য দিয়ে গমন করার সময় সমস্যার সৃষ্টি হয় ) যেমন,
নিউরোলজিকেল কিছু অসুখ ঃ মাংসপেশির স্নায়বিক দুর্বলতা ( myopathies ), মস্তিষ্ক এবং স্পাইনাল কর্ডের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন হওয়া ( এম এস ) , পারকিনসন রোগ ( কাঁপুনি জাতীয় ) , স্ট্রোক ( সেরিব্রাল ভাস্কুলার জাতীয় ) , চর্মের দাদ জাতীয় অসুখ ( Scleroderma ) কিডনি ফেইল হওয়া ( Uremia ), ডিপ্রেশন ইত্যাদি ।
৭- পরিপাকতন্ত্রের যে সকল অসুখের কারনে কন্সটিপেশন দেখা দিতে পারেঃ

Causes-of-Irritable-Bowel-Syndrome

Irritable bowel syndrome (IBS) বা অনিয়ন্ত্রিত পায়খানা জাতীয় অসুখে কন্সটিপেশন দেখা দিবেই তবে এর লক্ষন একটু ব্যাতিক্রম ধর্মী, যেমন কখন ও পাতলা পায়খানা, কখন কঠিন ইত্যাদি ( বিস্তারিত আই বি এস পর্বে দেখুন ) , পাকস্থলীর ক্যান্সার (Stomach cancer), অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার (Pancreatic cancer), ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স/ দুগ্ধজাত খাবারের প্রতি অসহিষ্ণুতা (Lactose intolerance), বদহজম (Indigestion), গুড়াকৃমি রোগ (Pinworm infection), সিলিয়াক ডিজিজ ( সিলিয়াক পর্বে দেখুন ), ইনটেস্টাইনাল ম্যালঅ্যাবজর্পশন (Intestinal malabsorption), হান্টিংটন ডিজিজ (Huntington disease), ইশকেমিয়া অফ দি বাওয়েল (Ischemia of the bowel), গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস (Gastroparesis), ইন্টাসাসসেপশন (Intussusception), ইন্টেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন (Intestinal obstruction ) ইত্যাদি ——-

 

৮- হরমোনগত ত্রুটিজনিত কারণ:

open-uri20120920-27407-126cesr

হরমোন শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যে রোগগুলি হরমোনের ভারসাম্যকে ব্যাহত করে সেগুলির কারণেও অনেক সময় ক্রনিক কন্সটিপেশন হতে পারে। যেমন থায়রয়েড হরমোনের স্বল্পতা (hypothyroidism) , এমাইলোডসিস ( Amyloidosis, শরীরে অতিরিক্ত প্রোটেন জমা হয়ে গেলে ),ডায়াবেটিস মেলাইটাস এবং এন্ড্রোক্রিন ডিসঅর্ডার । রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি হওয়া , পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের স্বল্পতা ( Hypercalcemia- Hypomagnesemia-Hypomagnesemia ), ইত্যাদি অসুখের কারনে দেখা দিতে পারে ।
( বিদ্রঃ- যেমন মহিলাদের মাসিক চক্রের বেলায় ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টারনের পরিমাণ ব্রদ্দি পেলে ও কন্সটিপেশন দেখা দিয়ে থাকে ( সাময়িক )- ৫ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে দুই জনের কন্সটিপেশন দেখা দিবেই – এর মুল কারন সে সময় প্রজেস্টারন হরমোনের পরিমাণ ও কার্যকলাপ বৃদ্বি পায় – বিশেষ করে গর্ভের প্রথম স্থরেই একটু বেশি দেখা দিতে পারে । মনে রাখবেন সে সময় কন্সটিপেশনের জন্য যে কোন ধরনের ঔষধ সম্পূর্ণ নিষেধ, তবে একান্ত মারাত্মক অবস্থা দেখা দিলে এনিমা সাপজেটরির ব্যাবস্তা করতে পারেন তাও ধাত্রি রোগ বিশেষজ্ঞের যত্নে রেখে – বিস্তারিত গর্ভের প্রথম স্থর পর্বে দেখুন — বিপরিত দিকে পুরুষদের বেলায় যারা অবিবাহিত তাদের কন্সটিপেশনের জন্য অল্প যৌন অনুভুতিতিতেই অণ্ডকোষে খুব বেশী চাপ প্রয়োগ হয় বিধায় যৌনতার স্তায়িত্ত কম সহ স্বপ্ন দোষের পরিমাণ একটু বেশী হয়ে থাকে বা অনেক সময় টেস্টারন হরমোন সঞ্চিত হতে একটু বেশী সময় লাগে বিধায় হরমোনের তারতম্য ঘটে যা দাম্পত্য জীবনে কিছুটা প্রভাব পেলতে পারে )

 

৯- মলদ্বারে পায়খানা হওয়ার ঢুস অথবা ঔষধ সেবনে অভ্যস্ত যারা ঃ
Laxatives-For-Weight-Loss
( Habitual use of enemas and laxatives) ঃ কন্সটিপেশন দেখা দিলে সব সময় লেক্সেটিভ জাতীয় ব্যাবহার করা ঠিক না কেননা এতে করে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারেন এবং অনেকের দেখা যায় ল্যাক্সেটিভ জাতীয় ঔষধ সেবন না করলে পায়খানা হইতেছেনা ইত্যাদি, পরবতিতে মলাশয় এবং কোলনের মাংসপেশি সমুহে নার্ভ সমুহের ফাটল ছিঁড়ল ইত্যাদি দেখে দিয়ে অন্যান্য স্থায়ী যে কোন অসুখের জন্ম দিয়ে থাকে । সে জন্য বিধায় প্রথমেই অন্ত্রের সংকোচন বৃদ্দিকারক ঔষধ সেবন না করে ( ল্যাক্সিনা, ক্যাস্টার ওয়েল, সিনা ইত্যাদি ) -ননস্টিমোলেট ঔষধ ( bulk-forming laxative/ osmotic laxatives, – Milk of Magnesia, ইসবগুলের ভুষি ইত্যাদি ) সেবন করা উচিৎ, কিন্তু যখন তা কাজ করবেনা তখন সাময়িক সময়ের সংকোচন বৃদ্দিকারক ঔষধ সেবন করতে পারেন ।
তাই ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছামত যে কোন ধরনের ভেষজ বা ক্যামিকেল ঔষধি সময়িক সময়ের জন্য ছাড়া দীর্ঘ দিন ব্যাহার থেকে বিরত থাকা উচিৎ । অনেক রোগীর ধারনা ল্যাক্সেটিভ জাতীয় ঔষধ সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিন্য চলে যাবে, যা সম্পূর্ণ সঠিক নয় — যদি না অভ্যাস এবং অন্য যে অসুখের কারনে হইতেছে তা দূর করতে না পারেন ( পাবলিক হেলথ রিসার্চ )

 

সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষন ঃ
( চলবে )

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

Information

This entry was posted on জানুয়ারি 28, 2016 by in Uncategorized.

নেভিগেশন

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

আপনার অভিমত

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

আর্কাইভ

স্বাস্থ্য

%d bloggers like this: