আপনার স্বাস্থ্য

ডাঃ হেলাল কামালি

Paralysis & Stroke ( 3rd Part ) / স্ট্রোক এবং প্যারালাইসিস (তৃতীয় পর্ব )

st03স্ট্রোকের কারনে পরবর্তী যে জটিলতা দেখা দেয় :
-পক্ষাঘাত -কোমা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া-খিঁচুনি-প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা/প্রস্রাব আটকে যাওয়া-ঘা হয়ে যাওয়া-বাচন সমস্যা-স্মৃতিশক্তির সমস্যা-পুনঃপুনঃ স্ট্রোক-মানসিক রোগঃ অবসাদগ্রস্থ হওয়া-নিউমোনিয়া

-পায়ের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা-চোখে দেখতে এবং দেখে বুঝতে সমস্যা হওয়া-কোষ্ঠকাঠিন্য-বা কেউ কেউ মৃত্যু বরণ করে থাকেন ।
– মনে রাখবেন প্যরালাইসিস শুধু স্ট্রোকের কারনে হয় ৮০%-৮৫% , বাদ বাকি অন্যান্য যে সব কারনে হতে পারে তা নিম্নে তুলে ধরলাম  ঃ-

 
paralysis / প্যরালাইসিস

প্যরালাইসিস বলতে যা বুজায় –  কোন কারনে শরীরের মাংশ পেশী সমুহের শক্তি সম্পূর্ণ ক্ষতি বা অবশ হয়ে যাওয়া – যেমন , পেশী সমুহ স্পাইনাল কর্ডের মাধ্যমে ( মস্তিষ্ক থেকে চালানো স্নায়ু কোষের চেইন কে মোটর পথ বলা হয়. সাধারন পেশী ফাংশন এই সব মোটর পথ ধরে অক্ষত সংযোগ রক্ষা করে ) . যে কোনো কারনে যদি পেশী ড্যামেজ বা স্পাইনাল কর্ড ড্যামেজ বা মস্তস্কের থেলেমেসিয়া অঞ্চলের যে কোন অংশ ড্যামেজ হয়ে মস্থিস্কের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হ্রাস পায় বা স্নায়ু তন্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মত কোন ঘটনা ঘটে অতবা ছিঁড়ে যায় , তখন ই ইহাকে পেরালাইসিস বা পক্ষাঘাতের সুচনা বলা যায় ।
কি কি কারণ ঃ- পক্ষাঘাতের কারণ হিসাবে যে কোন ভাবে মস্তিষ্ক নার্ভের ক্ষতি বা কেন্দ্রিয় সুষুম্না কান্ডে আঘাতের ফলে (the central nervous system ) হতে পারে অথবা এটি সুষুম্না কান্ডের বাহিরের দিকে আঘাত জনিত কারনে (the peripheral nervous system ) হতে পারে ।
যে সব কারনে মস্তিষ্কের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় :

১- স্ট্রোক ( যা প্যরালাইসিস হওয়ার জন্য ৮০% দায়ি )   ২- টিউমার ( এ জাতীয় কিছু হলে মাংশ পেশির স্থানিয় স্নায়ুর যোগা যোগ বিচ্ছিন্নতা থেকে হতে পারে — ৩- আঘাত জাতীয় ( পড়ে গিয়ে বা গাড়ি এক্সিডেন্ট জাতীয় কিছু হলে ) – ৪- একাধিক স্ক্লেরোসিস ( স্নায়ু কোষের আচ্ছাদন প্রতিরক্ষামূলক খাপ ধ্বংস করে দিতে পারে যে সকল রোগে আক্রান্ত হলে ) ৫- সেরিব্রাল পালসি ( যাহা মস্তিষ্কের সেরিব্রামে খুঁত বা আঘাতের কারনে ) ৬- বিপাকীয় ব্যাধি জনিত যে কোন কারনে ( স্পন্ডিলাইটিস, রিউমেট্যেড আরথ্রাইটিস ইত্যাদি ) ৭- Guillain-Barré syndrome ( মারাত্মক ভাইরাস বা বেক্টোরিয়ায় ইনফেকশন জনিত জ্বরে ভুগলে, ৮- যে কোন ধরণের বিষক্রিয়া জাতীয় আক্রমন থেকে ( সাপ বা ঐ জাতীয় কিছুর আক্রমণে ) অথবা মেরুদণ্ড সংলগ্ন যে কোন কারনে স্নায়ু ক্ষতি হতে পারে এমন কিছু করলে ইত্যাদি ।
স্বাভাবিক লক্ষণ জানার আগে কোন ধরণের পক্ষাঘাত শরীরের কোন কোন অঙ্গ অবশ করতে পারে তা জেনে নিন ঃ- ১- Hemiplegia জাতীয় অবশতায় বেশির ভাগ স্ট্রোক থেকে প্যরালাইসিস হয় বিধায় শরীরের যে দিক আক্রান্ত হবে তার বিপরীত দিকে মস্তিষ্কের ক্ষতি পরিলক্ষিত হয় ২- নিম্নাঙ্গ এবং উভয় পায়ের অসাড়তা lower spinal cord ( মেরুদন্ডের নিচের অংশ আঘাত বা ক্ষতি জনিত কারনে ) আঘাতের কারনে বেশির ভাগ হয়ে থাকে ৩- quadriplegia কাঁধ বা উচ্চতর পর্যায়ে অবশতা upper spinal cord ( কাঁদের পিছনের যে মেরুদন্ড ) আঘাতের কারনে বেশির ভাগ সময় দেখা দেয় – Diplegia ঃ- সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেরিব্রাল পালসি থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি জনিত ব্রেইন ডেমেইজ হয়ে যায় ৫- Monoplegia ঃ- কেন্দ্রীয় বা প্রান্তিক স্নায়ুতন্ত্রের বিচ্ছিন্নতার কারনে সৃষ্টি করতে পারে ( Monoplegia may be caused by isolated damage to either the central or the peripheral nervous system ) . শুধুমাত্র বাহু ও পায়ে যে দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত রোগ হয় তার বেশির ভাগ ই demyelinating প্যরালাইসিস ইঙ্গিত বলে মনে করা হয় – তা ছাড়া ও শরীরের বিভিন্ন অংশে fluctuating উপসর্গ থেকে একাধিক স্ক্লেরোসিস সৃষ্টি করতে পারে
সাধারন ভাবে যে সকল উপসর্গ চোখে পড়ে ঃ

বিবশতা এবং প্রচন্ড মাতা ব্যথা, দৃষ্টি পরিবর্তন, কথা বলতে সমসসা , বা ভারসাম্য সমস্যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে. সুষমা কান্ডের আঘাতে ( . Spinal cord injury ) প্রায়ই সময় মুত্রথলি, অন্ত্র , এবং যৌন অঙ্গের মধ্যে ভিন্ন ফাংশনের অবশতা দেখা দিতে পারে । অন্য দিকে আপার স্পাইনাল কর্ডের আঘাতে শ্বাস জনিত মারাত্মক অসুবিধা দেখা দিতে পারে ।
( পরিক্ষা নিরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ নিয়ে বিস্থারিত স্ট্রোকের শেষ অধ্যায়ে সঙ্কেপে দেওয়া আছে )
স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতের জন্য যে সকল পরিক্ষার প্রয়োজন হতে পারে ঃ স্ট্রোক এবং এর প্রকারভেদ নিশ্চিত করার জন্য সাধারনতঃ সিটি স্ক্যান অথবা এম, আর, আই করা হয়। এ চাড়া সাথে আর ও কিছু পরিক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে যেমন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা-রক্তে ইরেকট্রোলাইট মাত্রা–প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা–ইসিজি– ক্যারোটিউ ডপলার–ইকোকার্ডিওগ্রাফি- রক্তচাপ, কোলস্টেরল, ডায়াবেটিস, এমিনো এসিড ইত্যাদি এবং প্যরালাইসিস হয়ে গেলে যে সব পরিক্ষার দরকার হতে পারে ঃ- tomography স্ক্যান ( সিটি স্ক্যান ), ইমেজিং ( এমআরআই ) স্ক্যান , অথবা myelography সহ ইমেজিং গবেষণা Electromyography এবং নার্ভ সঞ্চালন ও স্নায়ু ফাংশন পরীক্ষা ইত্যাদি

 

প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি:

স্ট্রোকের লক্ষণ এবং উপসর্গ চিনতে এবং অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ । তার পর ও যদি অতি তাড়া তাড়ি হাসপাতালে নেওয়া সম্বভ না হয় তা হলে কাছের একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ – ( যদি মিনি স্ট্রোক না হয়ে হেমোরেজিক জাতীয় স্ট্রোক হয়ে থাকে সেই সন্দেহ দূর করার জন্য দ্রুত রোগ নির্ণয় ও ব্যবস্থা পরামর্শ দিতে পারবেন তিনি ) । মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্ত ৩ থেকে ৬ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করতে না পারলে অনেক সময় স্থায়ী ভাবে প্যরালাইসিস হয়ে যেতে পারে বা এমনকি মারাও যেতে পারেন ।
তার পর ও একজন শিক্ষিত নাগরিক হিসাবে আপনার যা করা উচিৎ ঃ- রোগীর শ্বাসনালী, শ্বাস-পশ্বাস এবং রক্ত সঞ্চালন দ্রুত পরীক্ষা করা– রোগীর মাথা এবং ঘাড়ের অংশ কিছুটা উপরের দিকে তুলে রোগীকে শুয়ে দেওয়া। রোগীর এই অবস্থান মস্তিষ্কের রক্ত চাপ কমায়–যদি এতে রোগীর অবস্থার উন্নতি না হয় তা হলে রোগীকে বাম দিকে কাত করে থুতনি উপরের দিকে টেনে ধরতে হবে। এতে রোগীর শ্বাসনালী উন্মুক্ত হবে এবং বমি করলে তা সহজে মুখ থেকে বের হয়ে আসতে পারবে- স্ট্রোক হয়েছে এমনটি মনে করলে সে রোগীকে ,কখনও কিছু খেতে বা পান করতে দিবেন না। খাদ্য নালী অবশ থাকার কারণে রোগী কিছু গলাধঃ করণ করতে পারবে না। এ অবস্থায় প্রদানকৃত খাদ্য-দ্রব্য সরাসরি শ্বাসনালীতে এবং ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে– রোগীকে বেশী নাড়া চাড়া করতে নিষেধ করতে হবে এবং চিকিৎসক আসতেছেন বলে রোগীকে আশ্বস্থ রাখার চেস্টা করবেন ।
আপনার হাতের কাছের চিকিৎসক এসে যা করতে পারেন ঃ- প্রথমত তিনি ১- পরিক্ষা করে দেখবেন আঘাত জনিত স্ট্রোক না রক্তপাতজনিত বা রক্তপ্রবাহে বাধা জনিত কারণে হল এবং সে অনুসারে বেবস্থা নিতেই হবে । ২- তারপর যদি রোগি অজ্ঞান থাকেন সে ক্ষেত্র, রক্ত চাপ কি রকম দেখতে হবে — ৩।- শ্বাসনালি, শ্বাসপ্রশ্বাস ও রক্ত সঞ্চালন নিয়মিত রাখার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। ৪- প্রস্রাব আটকে গেলে বা প্রস্রাব ঝরলে প্রয়োজনে ক্যাথেটার দিয়ে প্রস্রব করানোর বেবস্থা করতে হবে ৫. পুষ্টি ও খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে নাকে নল দিতে খাদ্য বেবস্তা করতে পারেন ( পরবর্তীতে একটি পর্যায়ের সুচনা মনে করলে ) এরপর যদি রোগি একটু স্তিরতা আসেই তখন অনেকে মনে করেন রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নাই কিন্তু আমার মতে তখন একজন স্নায়ু বিশেষজ্ঞের পরামর্শের প্রয়োজন । এ ছাড়া ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি, অচেতন রোগী অথবা অন্যান্য সমস্যা যেমন অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি থাকলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার প্রয়োজন আছে । স্ট্রোকে চিকিৎসার প্রধান উদ্দেশ্য মৃত্যুঝুঁকি কমানো, কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং পরবর্তীতে যেন স্ট্রোক না হয় তার প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা ।
( বাড়তি কথা ঃ- জরুরী চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত চিকিৎসক তিনির অভিজ্ঞতা অনুসারে প্রেসার, বা অন্যান্য কারন খোঁজে বাহির করে সাময়িক স্ট্রোক ধমানোর জন্য ব্যবস্থা  করতে পারেন বিশেষ করে প্রেসার জনিত সমসসা হলে ইঞ্জেকশন জাতিয় কিছু একটা প্রয়োগ ও করতে পারেন । লজ্জার কিছু নাই বলতে, এখানে উপস্থিত চিকিৎসক তিনির অভিজ্ঞতা থেকে রোগীর গার্জিয়ান কে সত্য ও বাস্তব কিছু আইডিয়া দিতে পারেন ( নির্ভর করে তিনির অভিজ্ঞতার উপর ) এতে করে এমন ও দেখা যায় উক্ত চিকিৎসক ইঞ্জেকশন দেওয়া পর ও প্রেসার বা ঐ জাতিয় স্ট্রোকের আর অবনতি হয়ে রোগি মারা গিয়েছেন, বা তখন অনেকের ভাবনা থাকে ডাক্তারের ইঞ্জেকশনের কারনে রোগি মারা গিয়েছেন, তাই অনুরোধ থাকবে এই জাতিয় ব্লেইম থেকে সবাই কে বিরত রাখার, কেন না একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কোন সময় চাইবেন না তিনির হাতে এসে একটা রোগি মারা যাক তবে অবশ্যই তিনি যেন রেজেস্টারড জিপি থাকেন এবং এ জাতিয় অসুখের বেলায় সর্ব প্রথম লকেল জিপি কেই সকল বিপদের সম্মুখিন হতে হয় – কেন না গ্রামীণ বা অনেক শহরতলী অঞ্ছল থেকে এ ধরনের রোগি হাসপাতালে যাওয়ার আগেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাস্থায় মারা যান অথবা যদি বেঁচে থাকেন (মিনি স্ট্রোক ) তা হলে এই সময়ের ভিতরেই স্ট্রোক গোফনে আঘাত করে নেচারেলি ভাবেই আবার ঠিক ও হয়ে যেতে পারে যা ৬০% বেলায় কয়েক ঘন্টা পর আবার ও আঘাত আনার সম্বাভনা থাকে এবং তখন অনেকের বেলায় ৮০% মৃত্যু বরণ করেন – সে জন্য অবশ্যই হাসপাতালে যাওয়ার চেস্টা করবেন- ( আমার পারসনাল ডায়রি থেকে চার বছরে , ২১ টি গ্রামের মধ্যে প্রায় ২৭৪ টি ঘটনা পেয়েছি  , এবং এ জাতিয় অসুখে সরাসরি ই সত্য কথা বলতাম রোগির গার্জিয়ানকে , বা ইঞ্জেকশন জাতিয় কিছু প্রয়োগ করতে হলে তাও বলতাম আপনার রোগীর এই সমস্যা এমনিতেই হতে পারে, মাত্র ৩ জন রোগীর গার্জিয়ানের আপত্তি ছিল তা পরে জানালাম এরমধ্যে দু জন রাস্থায় মারা গিয়েছেন এবং একজন হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসা রত অবস্থায় মারা গিয়েছেন , বাদ বাকি ৯৪ জন কয়েকমাস পর মারা গিয়েছেন, ১৩ জন রোগি ২১ দিনের ভিতরে মারা গিয়েছিলেন (ওরা সবাই অভাবের কারনে হাস্পাতালের মুখ দেখতে পারেন নাই ) এবং বাকি সবাই আমি বিদেশে চলে যাওয়া পর্যন্ত বেঁচে আছেন দেখে আসছিলাম, তবে দুঃখের বিষয় সবার ই অন্তত সামান্য একটু জড়তা জাতীয় খুত ছিল – কারন এ জাতিয় রোগীর প্রথম ধাক্কা সামাল দিতে হয় গ্রামীণ এরিয়ায় প্র্যাকটিস রত চিকিৎসকদের, যেহেতো নিজে ও এর একজন অংশীদার ছিলাম তাই সবাই কে মনে করিয়ে দিলাম )
হাসপাতালে যাওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা জরুরী অবস্থায় যে যে চিকিৎসকরা করতে হয় ঃ-( জানা থাকলে তখন আর মনে ভয় থাকবে না বা অনেক সময় এটা ওটা আপনাকে বাহির থেকে সংগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে ) সাধারনত স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসার জন্য মাল্টি ডিসিপিস্ননারি টিম (MDT) পদ্ধতিতে চিকিৎসকরা চিকিৎসা করে থাকেন । এই সকল টিমে থাকেন নিউরোলজিষ্ট, জেনারেল ফিজিশিয়ান, ফিজিওথেরাপিষ্ট, অকুপেশনাল থেরাপিষ্ট, নার্স, ভোকেশনাল ট্রেইনার ইত্যাদি।
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ পুনরুদ্ধার, টিস্যু ক্ষতি রোধ , অথবা পুনরায় যাতে স্ট্রোক না হয় সেই হিসাবে চিকিৎসা করে থাকেন ।স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বিশেষ কিছু গুরুত্ব পূর্ণ ঔষধ বা ইঞ্জেকশন ব্যাবহার করে থাকেন ( thrombolytics e.g., tissue plasminogen activator, tPA) অথবা anticoagulants ( Heparin ) রক্ত যাতে ক্লট না হতে পারে সেই বেবস্থা করে থাকেন এবং দীর্ঘ মেয়াদি কিছু ঔষধ যেমন, antiplatelets ( acetylsalicylic অ্যাসিড ) clopidogrel , dipyridamol, Dabigatran , warfarin ইত্যাদি গ্রোফের ঔষধ সমুহ ব্যাবহার করা হয়ে থাকে– সেই সাথে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ঔষধ, কলেস্টেরলের নিয়ন্ত্রণের ঔষধ ইত্যাদি থাকবেই – তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্রপাচারের প্রয়োজন ও হতে পারে (e.g., carotid endarterectomy)ঃ-ক্যারোটিড আর্টারি সার্জারি যা ক্যারোটিড এনডারটেরেক্টোমি নামেও পরিচিত। এই পদ্ধতিতে রোগীর ঘাড়ে ক্যারোটিড আর্টারিতে রক্তনালীর ব্লক দূর করা হয়। ক্যারোটিড আর্টারিতে উচ্চ মাত্রার ব্লক দূর করে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ানোর জন্যই সাধারণত সার্জারির কথা বলা হয়।–স্ট্রোক হওয়ার সাড়ে ৪ ঘণ্টার ভিতর যদি রোগীকে এ জাতীয় চিকিৎসা দেওয়া যায়। তা হলে অনেক সময় রোগীর সারাজীবন হাত-পা অথবা শরীরের অন্যান্য অংশের অবশ হওয়ার অবস্থা থেকে রক্ষা করা সম্বভ বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত ।
রোগি সবাধারন অবস্তায় ফিরে আসার পর বিশেষজ্ঞরা , স্ট্রোক যে কারনে হয়েছিল তার জন্য যতাযত ঔষধ ( যেমন প্রেসার, ডায়াবেটিসের , কোলেস্টারল বা হার্টের অসুখের কারনে হলে তার ঔষধ ) দিয়ে থাকেন – এবং অবশ্যই পরবর্তীতে ফিজিও থেরাপির কথা ও বলে থাকেন রোগির শারীরিক অবস্তা পনুদ্ধার করার জন্য ( কিন্তু ইহা নির্ভর করবে আপনার আর্থিক অবস্থার উপর, যার অনেকাংশ আপনার বাড়িতে বসেই করা সম্বভ ) । সাথে রক্তের ঘনত্ব বেশী মনে হলে প্রতিষেধক হিসাবে দীর্ঘ কালিন এস্পিরিন জাতীয় ঔষধ ( ডিস্প্রিন ) সেবন করার কথা বলে থাকেন-
এ ছাড়া ও দীর্ঘ মেয়াদি কিছু সাপ্লিমেন্টারি ঔষধ প্যরালাইসিস বা শরীর অবশতা জাতীয় অসুখে বেশ কার্যকর সে জন্য উল্লেখ করলাম , যা আধুনিক চিকিৎসায় বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।
সাপ্লিমেন্টারী এবং ভেষজ কিছু প্রমানিত ঔষধ আপনার সহায়ক হিসাবে কাজ করতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এই সব ঔষধি মুলত ইমারজেনশি হিসাবে কাজ করেনা অথবা ব্যাবহার করার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না – তবে স্ট্রোক প্রতিরোধক হিসাবে ভাল সহায়ক ইহা নিশ্চিত ( যার বেশিরভাগি খাবার থেকে গ্রহন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা )
( সাপ্লিমেন্টারী )
Alpha-lipoic acid ঃ- – আলফা lipoic অ্যাসিড যেমন ভিটামিন সি এবং ই বৃদ্ধির জন্য , সেল ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করে , এবং শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ নিজেই পরিত্রাণ সাহায্য করে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের সঙ্গে একত্রে কাজ করে. আলফা lipoic অ্যাসিড মস্তিষ্কের মধ্যে সহজে পাস করতে পারে , এটি মস্তিষ্ক এবং নার্ভ টিস্যু উপর প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব আছে এবং স্ট্রোকের জন্য বা মস্তিষ্কের রোগ জন্য একটি প্রমানিত ঔষধ ( বাজারে , Alpha-lipoic acid নামের ট্যাবলেট ও ক্যাপস্যুল পাওয়া যায় ) এ ছাড়া ফলিক এসিড , ভিটামিন B6 , ভিটামিন B12 , এবং Betaine ( অনেক ক্লিনিকাল গবেষণায় সহযোগি হিসাবে বেশ কার্যকর ) তবে এই সব ভিটামিন সমুহ খাবারের মাধ্যমে গ্রহন করার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অনুরোধ করেছেন – ম্যাগনেসিয়াম ঃ- কিছু প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের একটি স্ট্রোক বা অস্থায়ী ইস্চেমিক আক্রমণ চিকিৎসার জন্য সহায়ক হতে পারে কেন না ম্যাগনেসিয়ামের কারনে রক্তচাপ কমে আসে ইহা পরীক্ষিত । ওমেগা -3 ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার খাওয়া ঃ- ( প্রাথমিকভাবে মাছ থেকে ) মস্তিষ্ক রক্ত করনের ফলে ধমনীতে মধ্যে প্লেক buildup এবং রক্ত clots এর কারণেও স্ট্রোক রক্ষা করতে সাহায্য করে যা প্রমানিত .
ভিটামিন সি, সেলেনিয়াম , এবং ক্যারটিনয়েড মত অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের সঙ্গে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়. ইহা ও প্রমানিত –
কোএনজাইম Q10 – একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ইহা স্ট্রোক জাতীয় অসুখের ক্ষতিজনক প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে . সিও Q10 যেমন warfarin ( Coumadin ) রক্ত তরলীকরনে ভাল সাহায্য করে তাই ইহা ও উপকারী –
ভেষজঃ- যে সকল ঔষধি বৈজ্ঞানিক ভাবে স্ট্রোকে সহায়ক ( ইউনি-রিসার্চ ল্যাব, ইউকে )
( Vaccinium myrtillus ) . ক্র্যানবেরি – বিলবেরী ফল anthocyanidins বলা হয় – ইহা চমৎকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভেষজ বলা হয় যা হৃদরোগের দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতায় বেশ সুনাম অর্জন করেছে ।
রসুন ( Allium sativum ) . ক্লিনিক্যাল গবেষণায় তাজা রসুন রক্তের clots রোধ এবং প্লেক ধ্বংস করতে পারে. যার জন্য এই ভেষজ কে এন্টি কোলেস্টারলের প্রতিশেধক ঔষধি বলা হয় -তবে ইহা হেমরেজ জাতীয় ( রক্ত ক্ষরন জাতীয় ) স্ট্রোকে সেবন করা নিশেধ । যা এস্পেরিনের মত কার্যকর
Ginseng ( Panax ginseng ) ঃ- ইহা নর্থ এশিয়ান একটি ভেষজ , ( চায়নিস ) – যা এন্ডোথেলিয়াল সেল কর্মহীনতার হ্রাস হতে পারে বা ধমনীর গায়ের চর্বি স্থায়ি হতে বাধা দিতে পারে ।
হলুদ (হলুদ) ঃ- সদ্য পরিক্ষায় ৫৬% প্রমাণিত হয়েছে যে হলুদ কলেস্টেরলের মাত্রা বা রক্তবাহ দেয়ালে মধ্যে এলডিএল কে ভাল প্রোটেকশন দিয়ে রাখতে পারে, তবে আর ও রিসার্চের প্রয়োজন আছে ।
আকুপাংচারঃ- ভাল একজন আকুপাঙ্কচার বিশেষজ্ঞের সুই ব্যাবহারে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে স্নায়ু কে উজ্জিবিত করে অনেক টা লাভবান হওয়া যায় আবার স্থায়ি পেরালাইসিসের ক্ষেত্রে অনেকের নিউরমাসুল কানেকশনের জন্য বিশেষ একটি ফলদায়ক পদ্দতি হিসাবে ইদানীং বিশেষজ্ঞদের অভিমত –
একজন ফিজিও থেরাপিস্ট, স্ট্রোকের জন্য যে সকল ট্রেনিং বা পদ্দতির এর জন্য অনুরোধ করেন তা হচ্ছে ঃ- মবিলাইজেশন এক্সার সাইজ, পশ্চারাল চেনজেজ, স্ট্রেচ রিফ্লেক্স, রেইনজ অব মোশন এক্সার সাইজ, পশচারাল ইনহিবিশন এক্সার সাইজ, ভেজোমোটর রিফ্লেক্স এক্সার সাইজ, রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ, একটিভ ফ্রি, একটিভ এসিসটেড, এসিসটেড রেজিসটেড, রেজিসটেড এক্সারসাইজ, রিএজুকেশন এক্সার সাইজ, বেলেন্স ট্রেনিং, গেইট ট্রেনিং, পিএনএফ এবং বোবাথ-কেবাথ এক্সারসাইজ, নিউরোমাসকুলার এক্সইটেশন ও ইনহেবিশন, মাসকুলার স্ট্রেচিং, বিভিন্ন অর্থোসিস বা প্রসথেসিস ট্রেনিং ইত্যাদি – কিন্তু আর্থিক অভাব অনটনের কারনে যাহারা এসব করাতে পারবেন না তাদের জন্য নিম্ন লিখিত বিষয় সমুহ নজর দিলে অনেক সময় রোগির ভাইটাল ও মানসিক শক্তির প্রব্রিদ্দির ফলে প্রায় সমান কার্যকর হতে দেখা যায় — ( হেলথ ইনফ রিসার্চ )
প্যরালাইসিস চিকিৎসা পদ্ধতি ও রোগির সেবা দানকারীর দের জন্য কিছু তথ্য :- ( যা করতে হাসপাতালে ভর্তির দরকার নাই )
প্যরালাইসিসের জন্য শুধুমাত্র অন্তর্নিহিত কারণ বিবেচনা করে চিকিৎসা করা হয় তবে দীর্ঘমেয়াদী পক্ষাঘাত দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতিজনিত ফাংশন ব্যাপক পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রহণ করা যেতে পারে এবং সুস্থ পুনর্বাসন পক্রিয়া সঠিক ভাবে করতে পারলে অনেকেই মোঠা মোঠি ভাবে নিজের জীবন চলা ফেরার ক্ষমতা প্রায় সময় ফিরে পেতে পারেন ৭৩% । যার কারনে ফিজিও থেরাপির অবশ্যই প্রয়োজন ।সে জন্য সব সময় আপনাকে হাসপাতালে থেকে ফিজিও থেরাপি করতে হবে এমন কোন কথা নয় – প্যরালাইসিস হয়ে গেলে আপনি ফিজিও থেরাপিস্টের পরামর্শ নিয়ে অনেক পদ্ধতি আছে যা চাইলে বাড়িতে বসে ও করতে পারেন এবং এর জন্য একটু শিক্ষিত সেবা দানকারী আপনার পাশে থাকলেই হবে – প্যরালাইসিসের পরবর্তীতে প্রথম ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে রোগী ও রোগীর পরিবারের সদস্যদেরকে যতো বেশী সচেতন থাকবেন এবং যত বেশী নিয়মীত ফিজিওথেরাপি / ব্যায়াম জাতীয় বেবস্থা করবেন , তথোই দেখবেন রোগী দ্রুত আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছেন । রোগীর আত্মবিশ্বাস ও ক্রমাগত চেষ্টার ফলে একসময় রোগী পূর্ণ সুস্থতা ফিরে পেতে পারেন ।
( নিম্নের উপদেশ সমুহ ফিজিও থেরাপিস্ট রা দিয়ে থাকেন যা সবসময় খেয়াল রাখতে হয়, যে সেবা দানকারী- তাকেই, এবং তিনির চেস্টার উপর নির্ভর করেই রোগি তড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠা সক্ষম )
প্রাথমিক অবস্থায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে -শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করণ-সঠিক পজিশনিং-মাংস পেশীর স্বাভাবিক ইলাস্টিসিটি বজায় রাখাই মুল উদ্দেশ্য এবং প্যরালাইসিসের ২/৩ সপ্তাহ পর অন্যান্য যে সকল বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় – ( মাংস পেশীর স্বাভাবিক টান ফিরিয়ে আনা- শরীরের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট ফিরিয়ে আনা-শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের স্বাভাবিক নাড়ানো বা মুভমেন্ট ফিরিয়ে আনা–ব্যালেন্স কে উন্নত করার চেস্টা -স্বাভাবিক হাঁটার কিছু অভ্যাস ফিরিয়ে আনার চেস্টা করা-রোগীর কর্মদক্ষতা বাড়ানো ও মানষিক অবস্থার উন্নত করা–এরপর রোগীকে সমাজের অন্যান্য কাজে ফিরে যেতে সাহায্য করা-

 

 

রোগীর সেবা দান কারীর যা করতে হবে ঃ– ( নিচের বর্ণিত সেবা সমুহ একজন প্যরালাইসিস গ্রস্থ রোগীকে দিতে পারলে, আমার মনে হয় শুধু একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিলেই হবে )
১- ( স্ট্রোক আঘাত করার সপ্তাহে ) প্রথমেই যা খেয়াল রাখবেন ঃ- শরীরের এক পাশ অথবা অনেক সময় দুই পাশ অবশ হয়ে যায় কি না , মাংসপেশীর টান প্রাথমিক পর্যায়ে কমে গেলে ও এবং পরে আস্তে আস্তে টান বাড়তে থাকে, হাত ও পায়ে ব্যথা থাকতে পারে, হাত ও পায়ের নড়াচড়া সম্পূর্ন অথবা আংশিকভাবে কমে যেতে পারে, মাংসপেশী শুকিয়ে অথবা শক্ত হয়ে যেতে পারে, হাটাচলা, উঠাবসা, বিছানায় নড়াচড়া ইত্যাদি কমে যেতে পারে, নড়াচড়া কমে যায় ফলে চাপজনিত ঘা দেখা দিতে পারে, শোল্ডার বা ঘাড়ের জয়েন্ট সরে যেতে পারে ইত্যাদি বিষয় গুলো ।
বিদ্রঃ– রোগির যত্ন নেবার আগে আক্রান্ত রোগির যাতে- তিনির চিকিৎসক ও নিজের মনের প্রতি শতভাগ বিশ্বাস থাকে, যে তিনি পুনরায় রোগ মুক্তি পাবেন ( কেন না ইহা মস্তিষ্কের সাইকোট্রিক এক্টিভ অংশ যা প্যরালাইসিস কে ভাল করতে উজ্জীবিত করে )
২- দৈহিক থেরাপি ঃ- দৈহিক থেরাপির কিছু স্বাভাবিক ফাংশন আছে যা ​​পেশীতে ব্যবহার করে প্যরালাইসিসের জন্য কৌশলগত ভাবে বিকশিত করতে সাহায্য করে বা বজায় রাখে এবং প্রভাবিত পেশী শক্তি এবং নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করে , এ সময় দৈহিক কিছু ম্যাসেজ শরীরের পেশী এবং নার্ভ সমুহ কে একটু বাড়তি শক্তি সঞ্চালন করতে সাহায্য করে বিধায় কিছু স্নায়ু উক্তেজক লোশন বা তৈল ম্যাসেজ করার সময় ব্যাবহার করতে পারেন । – সেই সাথে মনে রাখবেন পক্ষাঘাত গ্রস্ত রোগিদের ভিন্ন রকমের ম্যাসেজ পদ্দতি আছে, রোগের ধরন অনুসারে আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে ভুল বেন না । কেন না পক্ষাঘাত রোগীদের প্রথম তিন মাস ম্যাসেজ করা অত্তান্ত ভাল বা অনেক সময় বাধতা মূলক । ( ইহা শুধু মাত্র একটি সহায়ক হিসাবে কাজ করে মনে করতে পারেন – চেস্টা করবেন আপনার বাড়ির জন্য ফিজিও থেরাপি ইলেকট্রনিক ম্যাসেজ জাতীয় মেশিন কিনে নেওয়ার – Biomove systems জাতীয় বা যে কোন ইলেক্ট্রো থেরাপি জাতীয়, ) তার সঠিক ব্যাবহার ভাল করে শিখে নিবেন ( আমার জানা মতে যে কোন ধরণের ইলেকট্রনিক স্টেমুলেশন মেশিন কিভাবে ব্যাবহার করতে হয় একবার দেখে নিলেই যে কেউ তা ব্যাবহার করতে পারবেন ) এবং এসব ডিবাইসের কারনে অনেকেই খুভ তাড় তাড়ি ভাল হয়ে যান – যদি ও বর্তমানে রোবরট সিস্টেম কিছু ডিবাইস আছে এবং সে নিজেই কাজ করে দেয় কিন্তু ইহা সাধারন মানুষের জন্য এখন ও খুভ বেয়বহুল । তার পর ও একজন মানুষের সেবার মত রোবট তা পারে না – তাই অনেকে এসব বাদ দিয়ে নিজেই সেই জাতীয় যত্ন করতে পছন্দ করেন ।
৩- ঔষধ ঃ- রোগির দৈনিক ঔষধ পত্র ঠিক মত খাওয়ার বেবস্থার সব কিছু বুজে নিবেন ,আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে এবং বেশী গুরুত্ব দিবেন যে রোগের কারনে স্ট্রোকে আঘাত করেছে এবং ইহা আবার পুনরায় যাতে আঘাত না করে সেই ঔষধের প্রতি – যদি দেখেন, রোগির ঠিক মত উন্নতি হইতেছে না, তা হলে সময় সময় ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন । সাথে উপরের বর্ণিত সাপ্লিমেন্টারি বা ভেষজ ঔষধ ব্যাবহার করতে পারেন বাড়তি সুফলের জন্য , অনেক সময় এ জাতীয় ইঞ্জেকশন বা ম্যাসেজ করার জন্য ( বি২, বি৬, ব১২ = একত্রে নিউরোবিয়ন জাতীয় ইত্যাদি ) ব্যাবহার করলে কিছু টা ভাল ফল মিলে । আর ও ভাল হবে উক্ত যত্নকারীর, মেশিন দিয়ে প্রেসার মাপা ,রক্তে গ্লকোজের পরিমান ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক বিষয়ে সামান্য ধারনা থাকলে ( প্রায় ৯০% বেলায় প্রতিদিন ডাক্তারের কাছে দৌড়াতে হবে না )–যত্নকারীকে সবসময় মনে রাখতে হবে, তার রোগির উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ রাখার নিজের কর্তব্য এবং সে জন্য প্রয়োজনমত জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন অথবা সুনির্দিষ্ট ঔষধ ব্যবহার করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ করা সম্বভ ।
৪- খাবার ঃ-রোগী যদি মুখে খেতে পারেন তা হলে চামচ দিয়ে সাবধানে খাওয়ান। অল্প অল্প করে দিন। খাবার যেন ফুসফুসে চলে না যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন । খাবার পর মুখ মুছে দিন। রোগী যদি নাকে নল দিয়ে খাওয়াতে হয় তা হলে তরল খাবার নির্দিষ্ট পরিমাণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর দিবেন । কখন ও নলে জোরে চাপ দিয়ে খাবার ঢোকাবেন না সেই সাথে নাক ও নল পরিষ্কার রাখুন- পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যেমন সয়াবিন তেল খাওয়া যাবে। মাছ এবং মাছের তেলও উপকারী কিন্তু এই তৈল কোন অবস্তাতেই অতিতিক্ত পুড়িয়ে/ জ্বালিয়ে নয় । তবে সরাসরি সম্পৃক্ত চর্বি যেমন যেমন প্রাণীজ তেল, ডিমের লাল অংশ, ঘি, মাখন, অথবা জমে যায় এমন ধরনের যে কোন তেল খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত রাখবেন ( যে কোন মান সম্মত তৈল পুড়ালে জ্বালালে বরং বেশী ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায় , যদি কোলেটারল আধিক্কের কারনে স্ট্রোক থেকে পক্ষাঘাত হয়ে থাকে তা হলে যত পারেন বাদ দিয়ে চলাই ভাল,কোলেস্টারল সম্বন্ধে ২য় পরবে দেখতে পারেন , নতুবা উপকারী ), যদি রোগির প্রয়োজন মাফিক ঘাম বেশী না হয় তা হলে লবন জাতীয় খাবার কমিয়ে দিবেন – এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি, ই এবং বিটা ক্যারেটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানোর চেস্টা করবেন – বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত রক্তের শর্করার চেক করতে একটি মনিটর ব্যবহার করবেন এবং সে জাতীয় খাবার রোগির কাছ থেকে দূরে রাখবেন – এ ছাড়া দৈনিক , সুষম খাদ্য, শাকসব্জী,ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, ভূষি সমৃদ্ধ খাবার যেমন: ঢেকী ছাঁটা চালের ভাত, ইত্যাদি খাওয়ানোর চেস্টা করবেন এবং প্রতিদিন দুই বেলা দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করে দিবেন । রোগীর প্রস্রাব ও মলত্যাগ নিয়মিত হচ্ছে কি না খেয়াল করুন। প্রস্রাবের নল দেয়া থাকলে ২১ দিন অন্তর নল পরিবর্তন ও পরিষ্কার রাখবেন।
৫- নিত্য দৈহিক ব্যায়াম ঃ- দেহের ভারসাম্মতা পুনরুধধার করতে কিছু শারীরিক ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে সে জন্য ঃ- ( যদি ও ফিজিও থেরাপি সেন্টারে অনেক বেবস্থা আছে কিন্তু অনেকের আর্থিক অবাস্থার কারনে তা সম্বভ না হতে পারে বিধায় নিজে নিজে চেস্টা করেন এবং তেমন পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না )
প্রথমত রোগী যদি হাঁটাচলায় অক্ষম হন, তাহলে দুই ঘণ্টা পর পর কাত করে দিন, যেন দীর্ঘক্ষণ একটি বিশেষ অংশের ওপর চাপ না পড়ে। পিঠ যেন ভেজা ভেজা না থাকে। প্রয়োজন হলে পাউডার দিবেন শরিরে । কোনো হাত-পা অবশ থাকলে ওই অংশের ব্যায়াম করান। নিয়মিত প্রতিটি অস্থিসন্ধি নাড়ান। বিশেষ ধরনের বিছানা ব্যবহার করতে পারেন, খেয়াল রাখবেন রোগির শোয়ার বিচানার তোষক জাতীয় বেড টি যেন শক্ত থাকে, যাতে শরীর কে চেপে ধরে রক্ত চলাচলের বেঘাত না ঘটায় । রোগি যদি উঠে বসাতে পারার মত অবস্থা হয় তা হলে রোগীকে সব সময় বিছানায় থাকতে বাধ্য করবেন না। প্রয়োজন হলে হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করবেন তা না থাকলে ঐ জাতীয় কিছুতে রোগীকে মাঝে মাঝে দার করানো বা সামান্য ধরে ধরে হাটার সমর্থ থাকলে একটু একটু চেস্টা করেন ( সাবধান তখন রোগির শারীরিক ব্যাল্যান্সের উপর নির্ভর না করে সব সময় সবাধানে এ সব করবেন যাতে পড়ে না যান ইত্যাদি বা তখন অবসতার কারনে শরীরের ওজন অনেকটা বেশী মনে হবে ) ,এ সব করতে করতে কিছু দিন পর দেখবেন রোগী নিজেই এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যেতে পারেন বা পরিবারের সবার সঙ্গে বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন । রোগীকে যতটা সম্ভব নিজের কাজ নিজে করতে উৎসাহ দিবেন ।রোগীর কথা বলায় সমস্যা থাকলে তার কথা মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন। এতে রোগীর আত্মবিশ্বাস বেডে যাবে। আর্থিক অবস্থা ভাল থাকলে রোগীর জন্য স্পিচ থেরাপির ব্যবস্থা করুন। সাধারণত ২১ দিন পর প্রায় সবাই নিজে নিজে অল্প অল্প করে কিছু করতে পারেন – সে জন্য খোলা মেলা পরিবেষে ,হুইল চেয়ার বা ঐ জাতীয় কিছু দিয়ে বাহিরে একটু একটু করে হাটানুর চেস্টা করতে থাকুন -, সকালের রৌদ্র তিনির জন্য অনেক ভাল কিন্তু প্রখর রৌদ্র আবার ক্ষতিকারক । রোগীকে প্রতি দিন হালকা আদ্র গরম পানি দিয়ে স্পঞ্জ করে ঘা মুচিয়ে দিবেন , যখন রোগি একটু হাত পা নাড়াতে বা সামান্য অল্প হাটতে পারেন তখন তিনিকে টব বাত বা ঐ ধরণের উষ্ণ বাথে গোসল করানোর চেস্টা করুন ( মনে রাখবেন রোগির যদি একটু ভাল সুস্থ বোধ করেন তা হলে নিজে ধরে সাতার কাটানোর চেস্টা করবেন , কারন পানির ভারসাম্মতায় পানির উপর শরীর ভেসে থাকে বিধায় ইহা ও একটি ভাল ব্যায়াম, যা হাইড্রো থেরাপির একটা অংশ – এভাবে কয়েক মাসেই রোগী তিনির নিজের ইচ্ছায় চলাফেরা করতে পারবেন – এ ধরণের রোগিরা সুস্থ হলে ও অন্তত পরবর্তী সব সময় খেয়াল রাখতেই হয় – এর পর থেকে রোগি তিনির নিজের ইচ্ছায় সামান্য কিছু ব্যায়াম বা হাটা চলা ফেরা করবেন তবে কোন সময় যেন নিয়মের অতিরিক্ত ব্যায়াম না হয় সে দিকে ও সতর্ক থাকবেন । ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা বন্ধ করতে হবে ইত্যাদি
অর্থাৎ প্যরালাইসিস হয়ে গেলে ওষুধ গ্রহণ ছাড়াই কেবল খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচারণে পরিবর্তন, মেডিটেনশন ও নিত্য অল্প ব্যায়ামের মাধ্যমেই রোগীকে প্রায় আরোগ্য করা সম্বভ ৮৫% এবং সকলের জন্য ইহাই স্ট্রোকের প্রতিরোধ ।

 
সামাজিক কিছু কুসংস্কার জাতীয় প্রথা ঃ-
আমাদের সমাজে স্ট্রোক ও প্যরালাইসিস নিয়ে বেশ কিছু কুসংস্কার আছে ( অশিক্ষিত ও পুরাতন মৌলবাদী জনগোষ্ঠির মাঝে ) ঃ- জীনের আছর বা সাপের বাতাস লেগেছে বলে মনে করা হয় এবং সেই সব বেক্তিরা প্রমাণিত নয় এমন ধরণের টুটকা ফাঠকা গাছ গাছালির ঔষধ খাওয়ান ,ঝার পোক করেন, (অথচ বাস্তবে দেখা যায় সেই সব গাছগাছালির মধ্যে ৯৯% স্ট্রোকের জন্য ক্ষতিকারক ভেষজ ই ব্যাবহার করে থাকেন বা যারা স্ট্রোকের চিকিৎসা করেন তাহারা ঠিকমত নাম ই ভাল্ভাবে জানেন না ,একান্ত ভাবে যদি ভেষজ ব্যাবহার করেন তা হলে অনুরোধ থাকবে একজন রেজিঃ চিকিৎসকের পরামর্শে করার । জিনের কারনে যদি ই কিছু হয়ে থাকে ! ( যাকে ভয় জনিত আঘাতের আওতায় আনা যায় ) তা হলে জীন স্ট্রোক হওয়ার পর মস্থিস্কে বসে থাকবে না , ইহাই বাস্তবতা । তার পর ও যদি রোগি ধর্মের প্রতি বেশী আস্থাশীল হয়ে পড়েন তা হলে উচ্চ পর্যায়ের কোন ইমাম সাহেবের কাছ থেকে উপদেশ নিতে পারেন ( যদি ও আমি মেডিক্যাল রাইটার হিসাবে এ সব সমর্থন করিনা কিন্তু আমি বেক্তিগত ভাবে ধর্মের প্রতি খুভি স্রদ্দাশিল ও দুর্বল বা এও জানি একজন শিক্ষিত ধর্মীয় শিক্ষক আমার কথাকেই সমর্থন করবেন ) — সাধারন জনগনের আর ও কিছু ভুল ধারনা আছে -স্ট্রোক হয় হৃৎপিণ্ডে ? না ইহা ও ভুল , স্ট্রোক হয় মস্তিষ্কে । স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায় না অনেকের ধারনা , না এই ধারনা ও ভুল , ৮০ % স্ট্রোকই প্রতিরোধ করা সম্ভব। অনেকে জানেন স্ট্রোক হয়ে গেলে এর কোন চিকিৎসা নেই? না ইহা ও ভুল ধারনা। স্ট্রোক হলে অতিসত্বর তার কারন নির্ণয় করে চিকিৎসা করাতে পারলে খুভ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও ঠেকানো সমভ ( তবে এখানে একটা সত্য বিষয় আছে , যোগাযোগ বা জরুরী যন্ত্রপাতির অভাবে অথবা রোগের কারন নির্ণয় করতে করতেই অনেকের স্ট্রোক একটা দিকের পরিবর্তন করে ফেলে তখন রোগি প্যরালাইসিসের দিকে ধাবিত হন বা মৃত্যু বরণ করেন ) । রসুন খেলে স্ট্রোক নিয়ন্ত্রণ করা সম্বভ ? হা ইহা ঠিক আছে তবে এর আগে জেনে নিতে হবে আপনার রক্তের ঘনত্তের অবস্থা, যদি রক্ত পাতলা হয় তা হলে, রসুন বা এস্পিরিন জাতীয় প্রতিষেধক ভালর চাইতে মন্দ করবে বেশী ।প্যরালাইসিসের রোগীদের আরামের জন্য অনেকে নরম তুলতুলে বিচানা ব্যাবহার করেন রোগির আরামের জন্য ? ইহা ও ভুল , এই ধরণের বিচানা পতেও ব্যাবহার করবেন যাতে শরীরের রক্ত চলাচলের ব্যাঘাত না ঘটায়, অর্থাৎ কিছু টা শক্ত হতে হবে । অনেকে মনে করেন স্ট্রোক শুধুমাত্র বয়স্ক মানুষের হয় ! না- ইহাও ঠিক নয়। যে কোনও বয়সে যে কারও স্ট্রোক হতে পারে। ( তবে ব্রিদ্দ বয়সে স্ট্রোকের পরিমান যেমন একটু বেশী, ঠিক তেমনি তা ঠেকানো ও কঠিন । ( বিশেষ করে বেশী বয়সের বেলায়, যা নেচারেল মৃত্যু হিসাবে গণ্য করা হয় – কারন সৃষ্টি কর্তা একজন আছেন সে কতা সবাইকে মনে রাখতে হবে !!!!! -আল্লাহাফেজ )

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

নেভিগেশন

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

আপনার অভিমত

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

আর্কাইভ

স্বাস্থ্য

%d bloggers like this: