আপনার স্বাস্থ্য

ডাঃ হেলাল কামালি

হরমোন ( ৪র্থ পর্ব ) যৌন হরমোন বা সেক্স হরমোন ( পুরুষদের জন্য )

450009 Vote ( X1 + Warning  or Over 13 Years  )

s 01Suportd & Reference from:- Dr Domingoঃ- University Hospitals Bristol NHS Trust / University of Manchester / Uni Rochester sex & Education – Alternatives to Human Growth Hormone HGH & sex hormone – ( Created Dr.Helal Kamaly )
( ছেলেদের বেলায় ১৪ এবং মেয়েদের বেলায় ১২ বছরের নিছে যাহারা – তাদের জন্য এই পর্ব সমূহ উপযোক্ত নয় – X1 )


ভুমিকা ঃ

( ব্যাক্তিগত অভিমত )

অনলাইন বা যে কোন বই পুস্থুক খুললে যৌন শিক্ষা নিয়ে অনেক ধরণের লিখা লিখি বা ডায়ামন্ড অভিজ্ঞতা দেখে বেশ ভালই লাগে কিন্তু দুখ লাগে , যখন দেখি এই শিক্ষা নিয়ে যারা দিনে রাতে লিখা লিখে করেন  আবেগ ও উক্তেজনা কর বিষয় সমুহ কে বেশি প্রধান দিয়ে – যা সেক্সলজি থিউরির বহির্ভূত এবং  বাস্থবতার সাথে সম্পর্ক যুক্ত নয় বরং ক্ষতিকারক – আমি বেশ কিছু দিন পাবলিক সেক্সুয়েল হেলথ এডুকেশনের সাথে জড়িত ছিলাম – যদি ও বিদেশে – তারপর ও আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথাই বলতে পারব আমাদের দেশের যে সকল তরুণতরুণীরা ইমুশনাল জাতিয় বিষয় সমুহ কে যৌন রোগ মনে করে তাদের ৯৮% মুলত কোন অসুখ নয় বরং জানার বা বুজার অভাবে অসুখ নিজে নিজেই  তৈরি করে  – অবশ্য সেই সাথে বিভিন্ন উক্তেজক ম্যাগাজিন, অনলাইন মেসুরড ছবি, অথবা কিছু বাজে কুশিক্ষায় শিক্ষিত বন্ধু বান্ধবের পরামর্শে ভুল বুজার কারনেই সে ধরনের অসুখে ভোগে থাকে – যার  ৯৯%  অসুখ মানসিক  দুর্বলতার কারনেই হয়ে থাকে ( অবশ্য আমি উড়িয়ে দিতে চাইনা – সেই দুর্বলতা কে অনেক  হারবাল যৌন রোগ বিশেশজ্ঞরা ও কাজে লাগিয়ে থাকেন – অথচ  আমার জানা মতে, এই সব বিশেষজ্ঞরা যৌন রোগের সঠিক সংজ্ঞাটা পর্যন্ত ভাল ভাবে জানেন কিনা সন্দেহ আছে বরং তাহারা আলিপ-লায়লা ও লায়লি-মজনুর উপন্যাসের মত অনেক কিছুকে সাজিয়ে অনেক কিছু বলে থাকেন-  অথচ  বিজ্ঞান সম্মত ভাবে এই সব বিষয়ে সামান্য ধারনা থাকলে  ৯৫% বেলায় মনো- স্নায়ুবিক জাতীয় অসুখ সমুহ কে এড়িয়ে – সুখি দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলা সম্বভ ) যদি ও ওয়েস্টার্ন দেশে যৌন বিষয় সমূহকে প্রত্যেকের যৌন  জিবনের শুরু থেকে শিখানু হয় বিধায় উপযুক্ত বয়সে তাদের তেমন আর কিছু জানার প্রয়োজন হয়না বা আমাদের মত অতিরিক্ত ইমুশনাল ও হয়না বিধায় খুব কম যৌন অপরাধ ঘটে থাকে )

যৌন শিক্ষা বিষয়ে জানতে হলে প্রথমে এর সাথে সম্পর্ক যোক্ত কিছু বিষয় জানার দরকার, সে সব বিষয় সমূহ বিজ্ঞান সম্মত না হলে ভুল শিখা হবে । যেমন , আমি বললাম টেস্টারন হরমোনের অভাবে মানুষের বার্ধক্যতা দেখা যায় , কথাটি সত্য হলে ও ইহা খায় না মাথায় দেওয়া হয় তাও জানিনা ইত্যাদি । সে জন্য বিজ্ঞান সম্মত ভাবে, প্রত্যেক মানুষের যৌন বিষয়ে ভাল- মন্দ দুটিতেই সু স্পষ্ট অভিজ্ঞতা থাকার দরকার, যদি দাম্পত্য জীবন কে সুন্দর ও সুখি রাখতে চান বা সমাজ কে এ জাতীয় অপরাধ মুক্ত করে রাখতে হয় তা হলে, সমাজ ও ধর্মীয় রীতিনীতি কে সরবোচ্চ অগ্রাদিকার দিয়ে  কিছুটা জানার দরকার বলে মনে করি –  এবং আমার বিশ্বাস তা থেকে সত্য বিষয় জেনে নিলে কখন ও  ছোট খাট  যৌন অপরাধ জনিত ঘটনা বা  অসামাজিক অপরাধ থেকে কিছু টা মুক্ত থাকা সম্বভ  – ধন্যবাদ ( ডাঃ হেলাল )
যৌন হরমোন বা সেক্স হরমোন সমুহ  ঃ-

এই সব হরমোনের মাধ্যমে রিপ্রোডাকশন ও যৌন উক্তেজনা জাতীয় কার্যক্রম চালানো হয় এবং পুরুষ ও মহিলাকে স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়ে থাকে এ হরমোন। সেক্স হরমোন পুরুষ মহিলাদের যৌন উক্তেজনা বা যৌবন কে সুগঠিত করা সহ সন্তান উৎপাদন করতে ৭০% কার্যকর ভুমিকা পালন করে বা এর অভাবে কি কি হয় নিচে সঙ্কেপে তুলে ধরলাম –
1. ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন – FSH 2. ল্যুটিনাইজিং হরমোন – LH 3. প্রজেস্টেরন 4. ইস্ট্রেজেন 5. হাইপোথ্যালামাস 6. পিটুইটারি গ্রনিথ 7. ডিম্বাশয় 8. গর্ভধারণ – hCG (মানুষের কোরিওনিক গোনাড্রোট্রোপিন) 9. টেস্টেস্টেরন 10. শুক্রাশয় 11. ইনসেনটিভ্‌স 12. প্রোল্যাকটিন – PRL ছাড়া ও আর প্রায় ৭১ পর্যায়ের হরমোন আছে । ( যে হরমোন সমূহ প্রত্যেক ভাবে জড়িত সে গুলো নিয়েই আলোচনা করব ) তার আগে এর সাথে সম্পর্ক যোক্ত কিছু বিষয় জানলে হরমোনের কার্যকলাপ সম্বন্ধে বুজতে আর ও সহজ হবে বিধায় নিছে আলোচনা করলাম ।

 

s 02
হাইপোথ্যালামাস কি ?
(ইংরেজি: Hypothalamus) মস্তিষ্কের সামনের দিকের একটি অংশ যা থ্যালামাসের ঠিক নিচে অবস্থিত, গ্রে ম্যাটার দ্বারা নির্মিত অংশ। হাইপোথ্যালামাস হাইপোফাইসিয়াল ট্র্যাক্ট দ্বারা পিটুইটারি গ্রন্থি এর সাথে যুক্ত থাকার মাধ্যমে স্নায়ু তন্ত্র এর সাথে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এর সংযোগ ঘটায়। হাইপোথ্যালামাস শ্বসনজনিত কিছু কাজ ছাড়াও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ু কেন্দ্র এর কিছু কাজ করে। এটি কতিপয় হরমোন সৃষ্টি ও ক্ষরণ করে যাদের হাইপোথ্যালামিক হরমোন বা রিলিজিং হরমোন বলে। আর এরই প্রভাবে এরা পিটুইটারি গ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত কিংবা নিবৃত করে। থ্যালামাসের সামান্য নিচে অবস্থিত অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকৃতির গঠন হচ্ছে হাইপোথ্যালামাস।

হাইপোথ্যালামাস মানুষের বিভিন্ন ধরনের মটিভেশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে এটি অপরিহার্য ভূমিকা রেখে থাকে। এখানে বিভিন্ন কেন্দ্র রয়েছে, যারা ক্ষুধা, তৃষ্ণা, যৌন আচরণ, ঘুম, দেহ তাপমাত্রা প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ব্রেনস্টেম থেকে সামান্য উপরে সেরেব্রাল কর্টেক্সের নিচের দিকে যে ডিম্বাকৃতির স্নায়ুকোষ গোষ্ঠী গঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাকে থ্যালামাস বলা হয়। থ্যালামাসের একটি অংশ বিভিন্ন সংবেদী ইন্দ্রিয় অঙ্গ থেকে আসার তথ্য আদান প্রধানের কাজ করে। এখানে দৃশ্য, শব্দ, স্পর্শ, স্বাদ, গন্ধ, প্রভৃতি তথ্য এসে জমা হয় এবং বিশ্লেষিত হয়। তারপর সেরেব্রাল কর্টেক্সের উপযুক্ত জায়গায় বিশ্লেষিত বিভিন্ন তথ্য চলে যায় । থ্যালামাসের অপর অংশ ঘুম এবং জাগৃতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে। থ্যালামাসকে লিম্বিক সিস্টেমের অংশ বলা হয়। হরমোন সমুহের মধ্যে বিরোধী মূত্রবর্ধক হরমোন, oxytocin. গ্রোথ হরমোন ( এর একটি অংশ টেস্টারন হরমোন ) , থাইরয়েড গ্রন্থি -re corticotrophin হরমোন, ডোপামিন, somatostatin, gonadotrophin, thyrotrophin ইত্যাদি হরমোন কেও নিয়ন্ত্রণ করে ।

 

 

s 03

অণ্ডকোষ কি বা এর কাজ কি ? ( পুরুষের জন্য )
( সকলের একটা বিষয় মনে রাখা উচিৎ অন্ড কোষে উৎপাদিত বীর্য বা শুক্রাণু ইত্যাদি এক বিষয় এবং যৌন উক্তেজনা আরেক বিষয় – বিশেষ করে যৌন উক্তেজনা মস্থিস্কের থেলেমাসে সাথে সম্পর্ক যোক্ত যা সরা সরি হরমোনের সাথে সম্পর্ক যোক্ত বিধায় সেক্স হরমোনের আরেক নামই সেক্স স্টিমুলেটর বা যৌন উক্তেজক ঔষধ , সে জন্য অনুরোধ থাকবে ন্যেচারেল উক্তেজনা কে বাড়াতে অনেকেই খারাপ বা অশ্লীল ভিন্ন বদ অভ্যাস করে থাকেন তা থেকে বিরত থাকার জন্য । রিসার্চ অনুসারে প্রমাণিত যারা যৌন বিষয়ে উক্তেজনাকর ভিন্ন বদ অভ্যাসের মত অসামাজিক কাজ করে থাকেন, তাদের যৌনতা  কম বয়সেই থেমে যায় বা মারাত্মক স্থায়ী অসুখে পরিণত হয়, যেমন  এডাল্ট ছবি দেখা, সামাজিক ভাবে  ভিন্ন অবৈধ যৌনতা বা সে জাতীয় কিছু করা , ইত্যাদি । প্রমান সরুপ ১০০% নিশ্চিত এ ধরণের পুরুষ বা নারী যতই সমাজে ভাল থাকেন না কেন বাস্থব দাম্পত্য জিবনে শতভাগ সুখী ক খন ও হতে পারবেন না )
টেস্টিস হচ্ছে পুরম্নষ প্রজনন অঙ্গ। এখানে স্পার্ম বা শুক্রাণু তৈরি হয় এবং এই স্পার্ম বা শুক্রাণুর সঙ্গে মেয়েদের ডিম্বাণুর মিলনের ফলে সনত্মানের জন্ম হয়। এই টেস্টিসের সংখ্যা দুটি। এর জন্ম পেটের ভিতর। টেস্টিসদ্বয় শিশুর মায়ের পেটে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নিচের দিকে নামতে থাকে এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বেই অন্ডকোষ (স্ক্রটাম) থলিতে অবস্থান নেয়।
এই সংবেদনশীল অঙ্গ দু’টি দেহগহ্বরের বাইরে অবস্থিত। কারণ দেহের ভেতর তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে । অধিক তাপে শুক্রাণু সন্তান জন্ম দেওয়ার উপযোগী থাকে না, নষ্ট হয়ে যায়। তাই অণ্ডকোষ দু’টি দেহগহ্বরের বাইরে স্ক্রোটাম বা অণ্ডথলি নামের একটি থলির ভেতর থাকে।প্রকৃতির নিয়মেই বিচি দুটি সামান্য ছোট বড় হয় । অন্ড থলির তাপমাত্রা দেহের ভেতরের চেয়ে প্রায় ৫ ডিগ্রি কম থাকে । এই তাপমাত্রা শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য উপযোগী। অণ্ডকোষ থেকে যেমন শুক্রাণু তৈরি হয় তেমনি অণ্ডকোষ টেস্টোস্টেরন নামের পুরুষ হরমোনও তৈরি করে। ( অন্ড কোষের যে কোন অসুখ বিসুখের বেলায় খেয়াল রাখবেন এ দুটি বিচি ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় আছে কি না ? ) এতে দু’ধরনের কোষ থাকে। লিডিগ কোষ ও জনন কোষ। লিডিগ কোষ থেকে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন তৈরি হয়। আর জনন কোষ থেকে শুক্রাণু তৈরি হয়। অণ্ডকোষ দ্বারা নিঃসৃত প্রধান হরমোনের নাম টেস্টারন হরমোন , ( মুলত এই হরমোনের ঘাটতির ফলেই ৭০% পুরুষের বার্ধক্যতা এবং যৌন উক্তেজনা কমে যেতে থাকে – বিস্তারিত পরবর্তীতে জানবেন ) এ ছাড়া ও androgenic হরমোন. Leydig কোষ থেকে inhibin বি এবং Sertoli কোষ থেকে বিরোধী Müllerian হরমোন, এবং ইনসুলিনের মত ফ্যাক্টর 3 এবং oestradiol হরমোন উৎপাদন করে থাকে ।

 

 

s04বীর্য ( Semen) পুরুষদের জন্য ঃ-

যা বীর্যরস নামেও পরিচিত, ইহা এক প্রকার জৈব তরল যা spermatozoa ধারণ করে। বীর্য পেলভিসের ভেতরে সেমিনাল ভেসিকল থেকে তৈরি হয়। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বীর্য বের হয় তাকে বীর্যপাত বলে।
পুরুষের বীর্যের উপাদান ঃ- বীর্যে শুক্রকীট ব্যতীত অন্যান্য যেসব উপাদান বীর্যে পাওয়া যায় , তার মধ্যে ৯০ শতাংশই তরল পানি জাতীয় উপাদান। পুরুষ যৌবনে পদার্পণ করলেই ( ছেলেদের বেলায় ১৪/১৫ এবং মেয়েদের বেলায় ১২/১৩ পিউবারটি দেখা দেয় এবং কি ভাবে পরবর্তীতে জানবেন ) বীর্যাধার বা কোষের মধ্যে শুক্র সৃষ্টি হতে শুরু করে এবং এই সৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকে পয়ষট্টি-পচাত্তর বছর বয়স পর্যন্ত। ( যদি যৌন রোগ বা বদ অভ্যাস জনিত কোন স্বভাব না থাকে )
বীর্যের গঠনঃ

প্রস্টেট(Prostate) গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত প্রস্টেট তরল,
সেমিনাল ভেসিক্যাল(Seminal Vesicle) থেকে নিঃসৃত সেমিনাল তরল,
গৌণ যৌন গ্রন্থি(Cowper’s Glands) থেকে নিঃসৃত সেমিনাল প্লাজমা এবং টেস্টিস (Testis) হতে উৎপন্ন সেমিনিফেরাস নালি ও এপিডিডাইমিস হতে নিঃসৃত তরল পদার্থ ও অসংখ্য শুক্রাণুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রস্টেট গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তরল পদার্থটি ক্ষারকীয় তরল পদার্থ। ধাতুর মধ্যে যে ক্ষারীয় গন্ধ পাওয়া যায় তা মূলত এই প্রস্টেটের জন্যই। প্রস্টেট তরলের মধ্যে বিভিন্ন উৎসেচক যেমন- প্রটিওলাইটিক উৎসেচক, এসিড ফসফেটেজ, ফ্রাইবিনোলাইসিন, সাইট্রিক এসিড, উচ্চ ঘনত্বের জিঙ্ক ও বিটা গ্লুকোনিডেজ। প্রস্টেট তরলের মূল কাজ হল- ধাতুর PH মাত্রাকে ৫.৬ থেকে ৬ মধ্যে বজায় রাখা, যাতে স্ত্রী যোনিতে শুক্রাণুর গমন সহজ হয়। এছাড়াও বীর্যে থাকে সুগার বা গ্লুকোজ যা কি না শুক্রাণুর কার্যকারিতা ও বলিষ্ঠতা রক্ষা করে । বীর্যে কয়েক টি ক্ষারীয় উপাদান থাকে । প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের কিছু পরিমাণ এনজাইম ও কিছুমাত্রায় ভিটামিন সি, বা কোলেস্টেরল ও দেখা যায় । সেমিনাল ভেসিকেল থেকে নিঃসৃত তরল মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ফ্রুক্টোজ, এস্কোর্বিক এসিড ও ইরগোথিওনাইন থাকে। উচ্চমাত্রায় ফ্রুকটোজ থাকায় শুক্রাণু তার পুষ্টি এই তরল থেকে গ্রহন করে, যতক্ষণ পর্যন্ত না একটি ডিম্বাণুকে সে নিষিক্ত করতে পারে, স্ত্রী যোনিতে পুরুষের শুক্রাণু প্রবেশের পর।
সিম্যান তৈরিতে বিশেষ রকমের খাদ্য উপাদানের সরবরাহের প্রয়োজন হয় না তবে সত্য যা তা হল বীর্যের সাথে খাবারের কোনো প্রত্যক্ষ বা ডাইরেক্ট সম্পর্ক নেই কিন্তু বাড়তি ভিটামিন প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে শরীরের হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে অবশেষে হরমোন উৎপাদিত হয় এবং পরে তা বৃদ্ধি হয় কোষ ভিবাজন প্রক্রিয়ার মত । সে জন্য হারবাল ভায়াগ্রাসহ অন্যান্য সম্পূরক খাবারকে ওষুধ হিসাবে এফ ডি এ কৃতক অনুমোদিত নয় যা শুধু যৌন শক্তি উক্তেজক হিসাবে ধরা হয় ।
একটা কথা সবারই মনে রাখা দরকার ,দেহের মাঝে বিরতিহীন ভাবে বীর্য সংশ্লেষণ ঘটছে স্খলনের উদ্দেশ্যে, জমা বা সঞ্চিত থাকার জন্য নয়। বীর্য নির্গমন যে প্রক্রিয়াই ঘটুক না কেন, তা মানব দেহের উৎপাদন কর্মকান্ডকে সচল, সবল আর গতিশীল রাখে। কাজেই স্বাভাবিক সেক্স সঙ্গম বা নিদ্রার মধ্যবর্তী স্বপ্নদোষ বা যে কোনোভাবেই হোক না কেন স্বাভাবিক পর্যায়ের বীর্য নির্গমন ক্ষতিকারক নয় বা এর জন্য কিছুই করতে হবে না যদি কোন অসুখ বা বদ অভ্যাস না থাকে ।
স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে বীর্য প্রথমত দেখতে মেঘলা সাদা অথবা কিছুটা ধুসর তরল , গাঢ় এবং জেলীর মত ইষৎ শক্ত দেখালেও পরবর্তী ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে বীর্য তরল এবং পানির মত পাতলা হয়ে যায়। একজন পুরুষের বীর্যের পরিমান গড়ে ৩.৪ মিলিলিটার এবং সর্বোচ্চ ৪.৯৯ মিলি থেকে সর্বোনিম্ন ২.৩ মিলি থাকা উচিৎ । ( শুক্র কীটের বেচে থাকার সময় ও নির্ভর করে এই বীর্যের পরিমাণে উপর )।
এ পর্যন্ত যে সকল খাবার বীর্য বাড়তে পরোক্ষ ভাবে সহায়তা করে তার মধ্যে কলা , রসুন জাতীয় খাবার , ডার্ক চক্লেট জাতীয় খাবার, মিস্টি কদুর বিচি , শামুক, মেকা, বাদাম ও সম্প্রতি ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার ও বেশ ফল দায়ক বলে জানানো হয়েছে ।
শুক্রাণু ( Sperm) কি ? বা এতে কি থাকে ( পুরুষদের জন্য ) ঃ
শুক্রাণু বা Sperm বলতে জীবের পুংজনন কোষকে বোঝানো হয়। শুক্রাণু যখন ডিম্বাণু কোষকে নিষিক্ত করে তখন জাইগোট সৃষ্টি হয় ( সন্তানের জন্ম নেওয়ার প্রথম চিহ্ন ) যা মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মধ্যদিয়ে পরবর্তিতে ভ্রূণ গঠন করে এবং একসময় শিশু জীবে গঠন করে। শক্রানুর লাইফ সার্কেল শেষ করতে ৭৪ দিন সময় লাগে । মানব শুক্রাণু হ্যপ্লয়েড কোষ অর্থাৎ এতে ক্রোমোসোমের সংখ্যা এর উৎপাদক কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক। মানব শুক্রাণুতে ২৩টি ক্রোমোসোম থাকে যা ডিম্বাণুর ২৩টি ক্রোমোসোমের সাথে যুক্ত হয়ে ২x২৩ ক্রোমোসোম বিশিষ্ট ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি করে। শুক্রাণুর আকার বিভিন্ন জীবে বিভিন্ন হয়ে থাকে এবং এটি শুক্রাণুর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট যার মাধ্যমে একটি জীব থেকে অন্য জীবকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। শুক্রাণুতে বিদ্যমান ক্রোমোসোমগুলো জীবের বৈশিষ্টের বাহক জিন বহন করে যা জীব থেকে তার বংশধরের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। যাকে ডি এন এর আওতায় নেওয়া হয় । সে জন্যই ছেলে বা মেয়ে তার বাবা মার দেহের গঠনের সাথে অনেক সময় অনেক কিছুতে মিল দেখা যায় আবন জেনেটিক হেবিটেশন প্রক্রিয়ায় তা কয়েক জেনারেশন পর্যন্ত দেখা যায় ।
এক মিঃলিঃ বীর্য বা ধাতুর মধ্যে প ২০,০০০,০০০-২২৫,০০০,০০০ শুক্রকীট বা শুক্রাণু ( Sperm ) থাকে। । অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখলে মনে হবে যেন এক একটা লম্বা লম্বা ব্যাঙাচি। এর মাথার দিকটা বড় আকারের এবং গোলাকৃতি, আর নিচের অংশটা সূতার মত লম্বা। প্রতিটি শুক্রাণুর তিনটি অংশ থাকে যথা- মাথা, ধড় বা গলা এবং লেজ। শুক্রাণু লেজের সহায়তায় এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যেতে পারে। শুক্রাণুর গতি হল ১-৩ সেন্টিমিটার প্রতি মিনিটে। কোন কারণে শুক্রাণুর দেহ গঠনের বিকৃতি ঘটলে অর্থাৎ মাথার আকৃতি বড় হলে কিংবা লেজ অংশ না থাকলে শুক্রাণুর সঞ্চালন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও প্রতি মিলিমিটারে শুক্রাণুর সংখা যদি ২০,০০০,০০০ ( Twenty million ) এর কম হলে শুক্রাণুর স্ত্রী ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার সম্ভাবনা কমে যায় যার জন্য পুরুষের বন্ধাত্ব দেখা দেয় (বন্ধাত্ব কি জানতে হলে পুরুষের বন্ধাত্ব কিভাবে হয় সেখানে খোজ করুন ) । কিছু এনজাইম ( Enzyme ) ও খনিজ লবণসহ পুরুষ দেহ থেকে নিক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রাণু যখন স্ত্রী দেহে প্রবেশ করে তখন ধাতুর এই জৈব রাসায়নিক উপাদান থেকে তারা ( শুক্রাণু )তাদের পুষ্টি গ্রহন করে বেঁচে থাকে। ( চলবে ) হরমোন ৪থ পর্বের দ্বিতীয় অংশে )

পর্ব ৫ এ দেখুন
ওবারি ( Overy ) মহিলাদের জন্য ঃ- —————————

Leave a Reply

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

আপনার অভিমত

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

আর্কাইভ

স্বাস্থ্য

%d bloggers like this: