আপনার স্বাস্থ্য

ডাঃ হেলাল কামালি

পরিপাক তন্ত্র -পর্ব ৫ ( Gastritis বা পাকস্থলীর প্রদাহ )

পরিপাক তন্ত্র -পর্ব ৫ ( Gastritis বা পাকস্থলীর প্রদাহ )   ( আমাদের ভাষায় অসুখটিকে গ্যস্ট্রিক বলে থাকি , procurer : Dr.H.Kamaly )

gas 00

পাকস্থলীর প্রদাহ বা গ্যস্ট্রিক বলতে – পেটের পাতলা আবরণ বা শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর উপর প্রদাহ বা ফোলে যাওয়াকেই বুজায় । পাকস্থলীর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর গ্রন্থি থেকে প্রতি নিয়তই হাইড্রোক্লোরিক এসিড এবং এনজাইম ( পেপ্সিন ) উৎপাদন করে – প্রাকৃতিক ভাবেই হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্য ভাঙ্গা এবং জীবাণু কে ধ্বংস করে অন্য দিকে পেপ্সিন প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কে কে হজম করতে সহায়তা করে – কিন্তু কোন কারন বসত যদি পাকস্থলীর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর ও অন্ত্রের গ্রন্থি সমূহ কম পরিমাণে এনজাইম উৎপাদন করে তখন হাইড্রোক্লোরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে পাকস্থলীর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর আবরন কে পুড়িয়ে দিতে চায় ফলে সেখানে প্রদাহ বা ফোলা দেখা দেয় – ইহাই পাকস্থলীর প্রদাহ । ( পুরাতন পাকস্থলীর প্রদাহ যাদের ) তাদের ৯০% বেলায় উক্ত প্রদাহে এইচ পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়া সেখানে আক্রমণ করে, ক্ষতের সৃষ্টি করে যাকে আমরা পাকস্থলীর আলসার বলে থাকি ( সাধারণ ভাবে আমরা যাকে গ্যাস্টিক অসুখ বলে থাকি )

 

পাকস্থলীর পদাহ কে সময়ের উপর ভিত্তি করে দুই ভাগে ভাগ করা যায় ঃ-
১- একিউট গ্যাস্ট্রাইটিস বা স্বল্প স্থায়ী পাকস্থলীর প্রদাহ ( Acute gastritis )ঃ-
৭৩% বেলায় সাধারণ বমি, পেট ফোলা-ফাফা এবং বুক জ্বলা ইত্যাদি দেখা দেয় যা বেশির ভাগ পাকস্থলী জুসের ভারসাম্যতার কারনে হয়ে থাকে এবং স্বাভাবিক ঔষধ সেবন করার পর সাময়িক ভাবে কমে ও যায় –তবে ১১% বেলায় পাকস্থলীতে তীব্র ব্যাথা হয় এবং কিছু রক্ত বমি হয় । যা পাকস্থলীর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর স্থর সমূহ চিঁড়ে যাওয়া অথবা এইচ পাইলোরি ব্যাক্টোরিয়ার আক্রমনেই রক্তপাত হয়ে থাকে , তবে এসিডিটির কারনে হলে – তা পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় পাকস্থলীতে প্রচুর পাচক-রস নিঃসরণ হওয়ার ফলে রক্তপাত এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায় – এ সময় রোগিকে ভাল চিকিৎসকের পরামর্ষে রাখা উচিৎ )

 

gas 6

২- ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইটিস বা দীর্ঘ স্থায়ী পাকস্থলীর প্রদাহ ( Chronic gastritis ) –
সাধারনত কয়েকবার স্বল্প স্থায়ী পাকস্থলীর প্রদাহ হওয়ার পরই দীর্ঘ স্থায়ী পাকস্থলীর প্রদাহ হয়ে থাকে যদি প্রথমেই এর উপযোক্ত চিকিৎসা বা ব্যাবস্থা গ্রহন করা না হয় – সুত্রনুসারে বছর থেকে শুরু করে কারও কারও বেলায় সারাজীবন ই অসুখটিতে ভোগে থাকেন ) — ইহাকেই ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইটিস বলে ।

 

পাকস্থলীর প্রদাহ হওয়ার মুল কারন ( গ্যাস্ট্রিক হওয়ার কারন ) ঃ-
পাকস্থলী প্রদাহের মুল কারন ই হচ্ছে , শারীরিক, মানসিক, অথবা বাহ্যিক যে কোন ভাবে পাকস্থলীর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী আঘাত প্রাপ্ত অথবা দুর্বল হয়ে ডাইজেস্টিভ এসিড বৃদ্ধি পেয়ে পাকস্থলীতে জ্বালাতন করা —
তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে -৮০% বেলায় এইচ পাইলোরি ব্যাক্টোরিয়ার আক্রমণ ( এই ব্যাক্টরিয়ার আক্রমণে খুব স্বল্প সম্যে পাকস্থলীর আলসার থেকে ক্যানসার হওয়া ও অসম্বভ কিছু নয় ) – অতিরিক্ত মদ্য পান, সিগারেট ধূমপান, কফি এবং পিজি ড্রিংক ( পেপসি, কোলা ইত্যাদি ), ভেজাল খাবার অথবা খাবারের এলারজি জনিত কারনে, ( যেমন শিশুদের বেলায় গরুর দুধ এবং সয়া ইত্যাদি )
ভাইরাস , ফাঙ্গাস , প্যারাসাইট ,কৃমি, টিবি, সিফিলিস , এইডস অসুখের আক্রমণ জনিত প্রদাহে — মানসিক চরম চাপ– অটোইমিউন জাতীয় অসুখ — পরিপাক জনিত অসুখ ( যার বেশির ভাগ Crohn’s diseases এবং অন্ত্রের প্রদাহ জনিত অসুখে হয়ে থাকে ) –অতিরিক্ত পিত্ত রস পাকস্থলীতে চলে আসা — কোকেন জাতীয় ড্রাগসের ব্যাবহার– যে কোন ধরনের বিষাত্বক কিছু পাকস্তলিতে প্রবেশ করা — সার্জারি– কিডনি অথবা যকৃৎ ফেইলার– প্রদাহ বিরোধী ঔষধ সেবন ( ব্যাথা নাশক , স্টেরয়েড, আয়রন, পটাসিয়াম সালফেট, ক্যামথ্যারাপির ঔষধ ) অথবা অতিরিক্ত মসলা বা ভেজাল যুক্ত খাবার — দীর্ঘ স্থায়ী বমি জাতীয় অসুখ — মরাত্মক রক্তাল্পতা ( বিশেষ করে পুস্টি এবং ভিটামিন বি-১২ এর হজম প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ব্যঘাত ঘটে থাকে ) — ইতাদি … ইত্যাদি !!!!

 

 

পাকস্থলীর প্রদাহের লক্ষণ ( গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণ ) ঃ
পাকস্থলী প্রদাহের প্রধান লক্ষণ ই হচ্ছে পাকস্থলীর বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তি সহ ( জ্বালা পোড়া, মোচড় ) ব্যথা অনিভুত হওয়া – সেই সাথে ঃ-
বদহজম -ঢেঁকুর উঠা ও পেট ফাফা ( ঢেঁকুর উঠার পর সাময়িক সস্থি হলে ও ব্যথা কমেনা বরং কিছু সময় পর উপর পেট সম্পূর্ণ পূর্ণ মনে হয়ে সেই সাথে বুক জ্বলা ও থাকতে পারে ) –
পেটে ব্যথা- ( ব্যথা পেটের উপরের দিকেই দেখা দেয় যা বাহু এলাকার নীচ এবং পেট-এলাকার উপরের অংশে (the “pit” of the stomach). কারও বেলায় কোন কোন সময় সেই ব্যথা পিছন দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে ( “go right straight through.”) কারও কারও বেলায় ব্যথাটি জ্বলা ও খিল ধরা সহ বাত জাতীয় অসুখের ব্যথার মত অনেক ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে — সে কারনে অনেক সময় রোগি ভুল করে ব্যথা সঠিক কোথায় হইতেছে বলতে পারেনা –
বমি বমি ভাব ( যা দেখতে সবুজ অথবা হলুদবর্ণের মত তবে পাকস্থলীর ঝিল্লী আক্রান্ত হলে চিট রক্ত ও আসতে পারে ) — বুক জ্বলা এবং ব্যথা- ( যন্ত্রণা খাওয়ার পর বেশী ভাগ দেখা দেয় , বিশেষ করে রাতের বেলায় একটু বেশী বাড়ে , ডিওডেনামের প্রদাহ হলে খাওয়ার পর ব্যথা কমে )
— কাল বা মিশ্রিত বর্ণের পায়খানা ( কোন কোন সময় তা মিশ্রিত শ্লেষ্মা যুক্ত হতে দেখা যায় ) এবং হেঁচকি –ক্ষুধামান্দ্য ইত্যাদি দেখা দিতে পারে ।

 

উপরের লক্ষণ সমূহ অনেকের বেলায় দেখা না দিয়ে ও গোফন ভাবে পাকস্থলীর ভিতরের লাইনার সমুহে রক্তপাত হতে পারে যাকে এরোসিভ গ্যাস্ট্রাইটিস বা ক্ষয়জাতীয় পাকস্থলীর প্রদাহ বলা হয় এবং নীচের লক্ষণ সমূহ দেখা দিতে পারে —
বিবর্ণতা, ঘাম, এবং দ্রুত হৃদ স্পন্দন –ঘন ঘন শ্বাস ও ভীরুভাব — পেট ব্যথার সাথে বুকে ব্যথা ও আসতে পারে এবং তা সময় সময় বাড়তে থাকে — একসাথে প্রচুর বমি হওয়া এবং বমির জন্য কিছুই পাকস্থলীতে কিছুই যেতে পারেনা ( খাদ্য, ঔষধ, পানি ) সে সময় শ্লেষ্মা মিশ্রিত ডোরাকাটা রক্ত আসলে মনে করতে হবে পাকস্থলীর ঝিল্লীতে ক্ষত জাতীয় কিছু হয়ে গেছে ( স্টমাক আলাসার ) – অন্ত্রে ও পেটের নড়াচড়া ব্রিদ্দি পায় ( গড়গড় শব্দ ) এবং গাঢ়, চটচটে দুর্গন্ধযুক্ত ঢেঁকুর – পেটের প্রদাহ জনিত অঞ্চলে স্পর্শ করলে ব্যথা বেশী অনুভুত ও জ্বর বা জর জ্বর ভাব অনুভুত হওয়া – রোগী পাণ্ডুবর্ণের হয়ে অনেক সময় অঞ্জান হয়ে যেতে পারে —
( উপরোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরী চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়া উচিৎ )

 

 

ক্যটাগরির উপর ভিত্তি করে পুরাতন পাকস্থলীর প্রদাহ ( গ্যাস্ট্রিক ) এবং কারন ঃ

gas a
টাইপ এ ঃ

ইহা সাধারণত বংশগত কারনেই হয়ে থাকে ( auto-immune gastritis ) , রিসার্চ অনুসারে দেখা যায় – পরিবারের পিতা- মাতার জিনগত সম্পর্কের কারনেই হয়ে থাকে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ফান্ডাস অঞ্চলে হতে পেরিটেইল কোষ থেকেই এসিড নিঃসরণ হয়ে পাকস্থলীর ঝিল্লীকে নস্ট করে থাকে অথবা ভিটামিন বি-১২ এর শোষণ ক্ষ্যমতা ঠিকমত হয়না বিধায় রক্ত শূন্যতার লক্ষণ বিদ্যমান থাকে । যার কারনে টাইপ এ গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা সারাজীবন লেগেই থাকবে যদি খাদ্য- পরিবেষ এবং অভ্যাসের দিক পরিবর্তন না করা হয় ।

 

gas b
টাইপ বি ( Atrophic gastriti ) ঃ

রিসার্চ অনুসারে , টাইপ বি র কারনেই ৮০% মানুষের গ্যাস্ট্রিক হয়ে থাকে । যার জন্য প্যাথজেনাস বেক্টরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক কে দায়ী করা হয় । তার মধ্যে ৬০% গ্যাস্ট্রিক থেকে আলসার হয়ে থাকে এইচ পাইলোরি বেক্টোরিয়ার কারনে । অবশ্য ৯০% বেলায় স্বল্প সম্যের গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা দেখা দেয় বিধায় উপযোক্ত চিকিৎসার ফলে তা পূর্ণ সেরে যায় । ( নতুন রিসার্চ অনুসারে দেখা যায় যাদের যাদের বেক্টরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক জনিত কারনে গ্যাস্ট্রিক হয়ে থাকে তাদের কাছ থেকে অন্য সুস্থ শরীরে সংক্রামণ হতে পারে ! যার কারনে টাইপ বি গ্যাস্ট্রিক জাতীয় অসুখ একটা সংক্রামণ জাতীয় অসুখ বলা চলে ( বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে জেনে নিতে পারেন )

 

gas c
টাইপ সি ঃ

টাইপ সি গ্যাস্ট্রিক মুলত পাকস্থলীর আভ্যন্তরীণ গোলাযোগের কারনে হয়ে থাকে । গবেষণা অনুসারে ইহা ১০ % মানুষের হয়ে থাকে , যেমন পিত্ত থলি থেকে অতিরিক্ত বাইল নিঃসরণের ফলে ( বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পিত্ত থলির পাথর অপসারণের ফলেই হয়ে থাকে ) , হারটিয়েল হার্নিয়া ( পাকস্থলীর উপররের দিকে খাদ্যনালীর পাশে অন্ত্র ব্রিদ্দি ), কেমিক্যাল এবং পয়জনাস জাতীয় কিছুর প্রবেশ ( ফুড-পয়জন, মদ, ধূমপান, ঔষধ ইত্যাদি ) যা দ্রুত পাকস্থলীর ঝিল্লী কে উক্তেজিত করে এসিডের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয় । অথবা পাকস্থলীতে ফুড এলারজির প্রতিক্রিয়ায় ও হতে পারে ।
এ ছাড়া টাইপ ডি যা মুলত কোলেন ডিজেজের কারনে হয়ে থাকে (IBD) যেমন, মুখ গহ্বর, খাদ্যনালী, কুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র , রেক্টাম বা পায়খানার রাস্থায় অন্যান্য ইনফেকশন জাতীয় অসুখ অথবা আই বি এস ইত্যাদি এবং টাইপ আর মুলত বুক জ্বলা জাতীয় অসুখের কারনে হয়ে থাকে ।

 

ডায়াগনোসিস ঃ

gas 2
( মনে রাখবেন গ্যাস্ট্রিক জাতীয় অসুখে সঠিক কারন খোঁজে না পেলে অসুখ টি তে অনেকের সারাজীবন ভোগতে হয় । সে জন্য সুন্দর ডায়াগনোসিসের প্রয়োজন । )
প্রথমেই আপনার অভিজ্ঞ চিকিৎসক, আপনার মেডিক্যাল হিস্টোরি, শারীরিক পরীক্ষা ( যেমন স্টেথোস্কুপ দিয়ে পেটের আভ্যন্তরীণ গোলাযোগ জনিত শব্দ, বা পেটের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ কৌশলে চাপ প্রয়োগ করে ব্যথার স্থান নির্ণয় করবেন ইত্যাদি ) করার পর তিনি সিদ্ধান্ত দিবেন আপনার জন্য কি কি পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন । সাধারণত নিম্নের একক বা একাধিক পরীক্ষার সমূহের প্রয়োজন হতে পারে ।

রক্তের পূর্ণ পরীক্ষা (CBC) ঃ বিশেষ করে রক্ত শুন্যতা বুজার জন্য হিমোগ্লোবিন খুবি জরুরী
পায়খানার সাথে রক্ত গেলে তা পরীক্ষা করা ( Fecal occult blood test ) ঃ কোন ধরনের জিবানুর আক্রমণে হয়েছে কি না তা বুজার জন্য ( Stool H.pylori Antigen Test )
ইউরিয়া ব্র্যাথ এবং সাল্ভিয়া বা মুখের লালা পরীক্ষা ( Urea breath or saliva test ) – যা পরীক্ষা করে এইচ পাইলোরি বেক্টোরিয়া থাকলে তা ধরা পড়ে । অথবা রক্তের সেরোলজি টেস্ট করাতে পারেন ।
সাধারণ এক্সরে করে পরিপাক তন্ত্রের গঠনগত পরিবতন ছাড়া আর তেমন কিছু বুজা যায়না বিধায় নিম্নের পরীক্ষার প্রয়োজন –
ইসোপেগাস্ট্রোডিওডেনাস্কপি অথবা আপার ইন্ডোস্কপি ঃ আপনার পেটের বা ডিউডেনামের ভিতর ঝিল্লীতে কোন ধরনের প্রদাহ বা ক্ষত থাকলে তা সরাসরি ছোট টাইনি ক্যামেরার মাধ্যমে স্ক্রিনে দেখা যায় বা একি সময়ে প্রয়োজনে অনেক সময় বায়োস্কপি ও করা হয় ( অর্থাৎ আক্তান্ত স্থানের সামান্য টিস্যু নিয়ে তা ল্যাবরেটরি এনালাইসিস করে অসুখটির মুল কারন নির্ণয় করা হয় )
অবশ্য সে সাথে একটা ইসিজি ও করে নিতে পারেন বিশেষ করে বুকের ব্যথা এনালাইসিস করতে সুবিধা হবে
তারপর ও যদি পাকস্থলীর প্রদাহের পিন পয়েন্ট না পাওয়া যায় অথবা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের কোন সমস্যা মনে করে হয় তখন আপনার চিকিৎসক কিডনি, লিভার ফাংশন, পিত্ত থলি , অথবা অগ্নাশয়ের যে কোন ধরনের পরীক্ষা করার কথা বলতে পারেন

 

 

চিকিৎসা ও ব্যাবস্থাপনা ঃ-

gas 3
স্বল্প স্থায়ী বা একিউট পাকস্থলীর প্রদাহের জন্য নিম্নের ঔষধ সেবন করার পর পর ই গ্যাস্ট্রিক জাতীয় অসুখ টি চলে গেলে ও কিছু দিনের ভিতর আবার পুনঃ আক্রমণ করে থাকে ৮০% বেলায় । তার বিশেষ কিছু কারন আছে যা চাইলে নিজের ইচ্ছায় প্রতিরোধ করতে পারেন । ( অবশ্য জেনেটিক্যাল এবং ট্রমাটিক কারন ছাড়া ) সে জন্য আপনার চিকিৎসকের দেওয়া পূর্ণ ডোজ সেবন করা উচিৎ ।
সেই সাথে আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সবাই কে তখন যা বলতাম ( গ্যস্ট্রিক অসুখে আক্রমণ করার পরবর্তী ২৪ ঘন্টা কোন অবস্থাতেই তাড়াহুড়া করে কিছুই খাবেন না , ব্যথা নাশক ঔষধ সেবন করলে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করবেন, সেই সাথে এলকোহল মুক্ত ও কম মসলা যুক্ত , কম চর্বি ও তৈল যোক্ত খাবার , কারবনেট, ফ্রুট ও সাইট্রিক এসিড যোক্ত সকল ধরনের ড্রিংক এড়িয়ে চলবেন অথবা যে খাবার খেলে অন্ত্রের এলারজি উক্তেজিত হয় তা খাবেন না ( ডিম, চিংড়ী, শুঁটকি ইত্যাদি যা একেক জনের একেক রকম ) – ধূমপান এড়িয়ে থাকবেন এবং মানসিক স্ট্রেস থাকলে তা কমানোর চিন্তা ভাবনা করুন !!!!
তারপর ট্রিপল থ্যারাপি ড্রাগস ব্যাবহার করতাম এবং তার মধ্যে ৯৭% রোগী ভাল হয়ে যেতেন — কিন্তু অনুমানিক ১০% রোগী ৩ মাসের ভিতরে আবার আসতেন একি সমস্যা নিয়ে , তখন ৯০% বেলায় দেখতাম খাদ্য জনিত কারনেই গ্যাস্ট্রিক অসুখটি পুনঃ জন্ম নিয়েছে এবং এর মধ্যে বছর শেষে ২% রোগী আলসার জাতীয় অসুখের স্বীকার হতেন , যাকে মনে করতাম যে কোন একটা জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন — এরপর খুব শক্ত হাতে চিকিৎসা করতে হত, তখন আমি ব্যাক্তিগত ভাবে সবাইকে একটি অনুরুধই করতাম ! যে খাবার খেলে অসুখটি বাড়ে মনে করেন তা থেকে বিরত থাকবেন ।
তারপর ট্রিপল থ্যারাপি ব্যবহার করতাম = ওমিপ্রাজল ২১ দিনের জন্য + এন্টিবায়োটিক্স ক্যাপস্যুল clarithromycin এবং amoxicillin ১০ দিনের জন্য অথবা যাদের মিউকাস জাতীয় পায়খানা হওয়ার লক্ষণ বিদ্যমান তাদের জন্য metronidazole দিতাম ৭ দিনের জন্য ( অবশ্য কুস্টকাঠিন্যতা তীব্র থাকলে মেট্রনিডাজল না দিয়ে অন্য একটি এন্টি-ফাঙ্গাল ড্রাগস সেবন করার কথা বলতাম ।
সেই সাথে পাকস্থলীতে তে তীব্র ব্যথা থাকলে সাময়িক ৩ দিনের জন্য এন্টিস্পাস্মোটিক ড্রাগস ( নো-স্পা, হাইসোপেন ইত্যাদি ) সেবন করার পরামর্ষ দিতাম ( তবে কোস্টকাঠিন্যতায় ব্যবহার ঠিক নয় বরং সে সময় মিল্ক অব ম্যাগ্নেশিয়া দিতাম ) এবং বমি বা বমি বমি ভাব থাকলে সাময়িক ভাবে Antiemetics কয়েকটি ট্যাবলেট সেবন করার কথাই বলতাম — যা ফাস্ট লাইনের গ্যাস্ট্রিক এবং আলসারের জন্য এখন ও ৯৫% কার্যকরী —
মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট সেবন করার কথা বলতাম যাদের শারীরিক দুর্বলতা বেশী বুজতাম অথবা যাদের অবস্থা ভাল তাদের কে ট্যাবলেট না দিয়ে ভিটামিন বি১২ জাতীয় খাবার বেশী খাওয়ার কথাই বলতাম – সেই থিউরিটি আজ ও সকলের জন্য ভাল কার্যকর যদি এর আগে উচ্চ ক্যমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিক এর আগে সেবন না করেন ।
( বিদ্রঃ যদি ও মেডিক্যাল আইন অনুসারে ব্যাক্টোরিয়ার আক্রমণ পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক্স ব্যাবহার করা ঠিক নয় , তা জেনে ও পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে তা করতে হত – কারন আমাদের দেশে সামান্য অসুখের আগেই কামানের চেয়ে বড় – রকেটের মত পাওারফুল এন্টিবায়োটিক গিলে ফেলেন অনেকেই , চিকিৎসকদের উপদেশ ছাড়াই ) ==

 

দীর্ঘ স্থায়ী বা ক্রনিক গ্যাস্ট্রিকের জন্য ও উপরের ঔষধ সহ নিম্নের যে কোন একটি কারনে তা আবার দেখা দিলে- তার সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে অথবা প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট অনুসারে যথা যত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে – যেমন
১- ব্যাকটেরিয়াল, ভাইরাস, বা প্যারাসাইটিক জনিত জীবাণুর কারনে হলে তার উপযোক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ নতুবা ৮০% বেলায় আলসার জাতীয় অসুখ দেখা দেবেই ।
২- ড্রাগ জাতীয় ( কোকেন ) , মদ অথবা উক্তেজক ঔষধ , পিত্তরস বেশী নিঃসরণ, এলারজি রিয়েকশন , ফুড পয়জন, মানসিক স্ট্রেস বা অন্য বাহিরের কোন বিষাক্ত পদার্থের রিয়েকশনে তৈরি হলে তার ব্যাবস্থা গ্রহ করতে হবে ।

 

নিউট্রশনাল এবং সাপ্লিমেন্টরি কিছু উপকারী ভেষজ ও পথ্য ঃ- ( বিশেষ করে অটো-ইমিউন গ্যাস্ট্রিকের জন্য সারাজীবন ই মেনে চলতে হবে, নতুবা সারাজীবন ঔষধ খেতেই হবে )
পথ্য হিসাবে ঃ ( একেক জনের একেক রকমের খাবার পেটের এসিড কে উক্তেজিত করে )
পেঁপে, অ্যাপেল , স্যালারি, ও ক্যানবারি জুস উপকারী ( তবে গবেষণানুসারে পেঁয়াজ, রসুন এবং চা পান না করাই ভাল, কারন এই সব খাদ্য এইচ পাইলোরি ব্যাক্টোরিয়ার আক্রমন বাড়িয়ে দেয় )
ফলমূল হিসাবে ব্লুবেরি, চেরি, টমেটো , আম, স্কোয়াশ এবং সবজি হিসাবে যে সকল সব্জিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশী সেইসব খাবার সমূহ সব সময় খাওয়ার চেষ্টা করুন ।
ভিটামিন বি এবং ক্যালসিয়াম যে সব খাবারে আছে তা নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করুন , যেমন- আলম্নড, শিম, বাদাম, সবুজ শাঁক, এবং সামুদ্রিক সবজি ইত্যাদি প্রোটিনের জন্য চর্বিহীন মাংস, মিষ্টি পানির মাছ, এবং ডাল খেতে পারেন ।
তবে অবশ্যই রিফাইনিং খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন যেমন, সাদা ব্রেড, পাস্তা এবং চিনি ,আচার ইত্যাদি সেই সাথে ফসাটফোড জাতীয় যাবতীয় খাবার ( চিপস , ক্র্যাকারস ইত্যাদি ) – ড্রিংক হিসাবে অবশ্যই কারবনেট মিশ্রিত ড্রিংক সব সময় এড়িয়ে যেতে হবে । চেষ্টা করুন ভেজাল যুক্ত খাবার সব সময় এড়িয়ে চলার — ইত্যাদি এবং চেষ্টা করবেন পানি একটু বেশী পান করার ।
নিউট্রেশনাল হিসাবে ঃ
প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট অন্তত একটি সেবন করতে পারলে ভাল ( A, C, E, the B vitamins, and trace minerals, such as magnesium, calcium, zinc, and selenium.) , প্রয়োজন নাই যদি প্রায় সময় ভাল ভিটামিন ও খনিজ খাবার খেয়ে থাকেন ।
ওমেগা-৩ বা মাছের তৈল প্রতিদিন একটি করে সেবন করলে প্রদাহ হ্রাস করতে সাহায্য করবে । ( তবে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের বেলায় তা সেবন করা নিষেধ )
প্র-বায়োটিক সাপ্লিমেন্ট ভাল সহযোগি একটি নিউট্রেশনাল ড্রাগস যা এইচ পাইলোরি ব্যাক্টরিয়া কে ধ্বংস করতে এন্টিবায়োটিকের সাথে সেবন করলে এন্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে ।

 

gas 4
ভেষজ ঃ ( যদি ও অনেক ধরনের ভেষজ আছে কিন্তু ড্রাগস রিসার্চ অনুসারে বিশেষ ভাবে নিম্নের কয়টি ঔষধ বেশী কার্যকর বলা হয়ে থাকে – আমার ব্যাক্তিগত মতে ব্যাক্টরিয়া জনিত কারনে ( টাইপ বি ) গ্যাস্ট্রিক হলে অবশ্যই নিম্নের ঔষধের সাথে ভাল এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করা উচিৎ, নতুবা খুব দ্রুত অসুখটি আলসারে পরিণত হতে পারে )

 

আজয়াইন বা জৈন ( সিলেটি ভাষায় জিরা বলা হয় )
আজয়াইন বা কেরমের বিজ কে ন্যাচারেল এন্টাসিড বলা হয় – ইহা খুব সুন্দর প্রক্রিয়ায় পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেন থেকে এসিড সমূহ কে নস্ট করে কুদ্রান্ত্রে দ্রুত পাঠিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে অন্ত্র পরিস্কারক গ্যাস হিসাবে ব্যবহিত হয়ে রেক্টামে চলে যায় , সে জন্য ইহা কলিক ব্যথায় ও ভাল উপকারী ভেষজ । ( প্রমাণিত ) সাধারণ ভাবে এক চামচ গোয়ামুড়ির বীচির সাথে সামান্য লবন মিশিয়ে পাউডার করে অথবা বিজ সেবন করে দেখতে পারেন ।
মেন্থল পাতা ঃ মেন্থল ব্যাজারের ট্যাবলেট হিসাবে পাওয়া যায় যা ১টা করে দিনে ৩বার সেবন করলে ভাল উপকার পাওয়ার কথা । ( ইউরোপিয়ান বাজারে বোটসে পাওয়া যায় )
অথবা যষ্টি মধুর দ্বারা তৈরি ট্যাবলেট ২৫০ মিগ্রাঃ প্রতিদিন দিনে ৩ বার সেবন করতে পারেন – যা ব্যাথা নাশক বা অন্যান্য কেমিক্যাল জাতীয় কিছু সেবন করার ফলে যে গ্যাস্ট্রিক হয়ে থাকে তার জন্য সবচেয়ে ভাল । ( ইউরোপিয়ান বাজারে বোটসে পাওয়া যায় )
আমার জানা বিষয় থেকে খুব সুন্দর একটা ভেষজের মিক্সার তুলে ধরলাম যা ড্রাগস রিসার্চ অনুসারে ও বদ হজম এবং এসিডিটির জন্য ভাল বলে প্রমাণিত –
একচামছ জৈনের সাথে ৪/১ চামছ পরিমাণ আদা এবং সামান্য কাল লবনের সাথে মিশ্রিত করে এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে মিশ্রিত করুন এবং তা দিনে ৩ বার ব্যাবহার করুন – যা সাধারণ এন্টাসিড বা অন্যান্য ঔষধের চাইতে অনেক ভাল কাজ করার কথা ( প্রথম ২৪ ঘন্টার ভিতর যদি উন্নতি দেখতে না পান তা হলে মনে করতে হবে ইহা এসিড জনিত কারনে না হয়ে অন্য যে কোন কারনে পাকস্থলীর প্রদাহ দেখা দিয়েছে । )
তা ছাড়া, – যষ্টিমধু- ডাবের পানি — শুকনা আদা – দই — পুরাতন গ্যাস্ট্রিকের জন্য ভাল সহায়ক ভেষজ । ইচ্ছা করলে আপনার অন্যান্য ঔষধের সাথে দীর্ঘদিন তাও সেবন করে যেতে পারেন ।

আকুপাংচার ঃ-
আমার জানা মতে আকুপাংচার দ্বারা একমাত্র মানসিক চাপের কারনের গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা ছাড়া অন্য ধরনের গ্যাস্ট্রিকে তেমন ফলদায়ক নয় — যদি ও কেউ কেউ দাবি করেন টাইপ এ তে ভাল ফলদায়ক কিন্তু রিসার্চ অনুসারে এখন ও তা প্রমাণিত হয়নি ———— ধন্যবাদ

পরবর্তী পর্বে — ৮০% গ্যাস্ট্রিক এবং আলচার ও একটি ছোঁয়াচে রোগ বা এক ধরনের ট্রান্সমিটেড জাতীয় অসুখ + আলসার ( আপডেট পর্ব ) এবং শেষ লাইনের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ।

Verssion Inf :- The National Institutes of Health (NIH) - The Merck Manuals-- ( prof-verssion ) Dept of Gastroenterology ( Uni of Medical School Bristol ) Creditor Dr.H.Kamaly
Supporting Ferri FF. Ferri's Clinical Advisor 2015 , 2015:478.

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

আপনার অভিমত

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

আর্কাইভ

স্বাস্থ্য

%d bloggers like this: