আপনার স্বাস্থ্য

ডাঃ হেলাল কামালি

পরিপাক তন্ত্র -পর্ব ৩ ( আমাদের পেটে বায়ু ( গ্যাস ) কীভাবে তৈরি হয় ? পেট ফোলে কেন ? ঢেঁকুর ওঠে কেন ? পায়ু পথের বায়ু বা ফ্লাটুলেন্স কি বা এতে দুর্গন্ধ বেশী হয় কেন ? দুগন্ধ যুক্ত বায়ু আসলে কি কি অসুখের লক্ষণ মনে করতে পারেন -)

bl 00
RF:- Uni of Bristol medical school (Gastroenterology ) D. Adam Dangoor ( Uni-Hospital , UK NHS ) – Oxford Handbook of Gastroenterology and Hepatology (Oxford ) etc ——–

যে কোন কিছু খাওয়ার পর তা পচিত হয়ে মলাশয়ে বায়ু তৈরি হওয়ার স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া মাত্র । ইহা ২৪ ঘণ্টায় অন্তত এক থেকে চার পাইন্ট বায়ু অন্ত্রে তৈরি হয়। এই বায়্যু ২৪ ঘণ্টায় সাধারণত ৮/১৫ বারে ঢেঁকুর হিসেবে বা পায়ুপথে বের হয়ে যায় । আমরা যেসব খাবার খাই তা হজম হয়। এই হজম হওয়ার প্রক্রিয়াতেই উপজাত বা বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে এই বায়ু উৎপন্ন হয়। আবার মলাশয়ে (যেখানে হজম হওয়া খাবার মল হিসেবে জমা থাকে) অনেক ব্যাকটেরিয়া। এগুলোও বায়ু তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং উক্ত বায়ু রেক্টামে তৈরি হয় যার মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন ও মিথেন গ্যাস ই বেশী উৎপন্ন হয় । কখনো কখনো সালফাইড জাতীয় গ্যাসও তৈরি হয়। কোনো কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী বায়ু তৈরি হলে অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। ( মেডিক্যাল সাইন্স অনুসারে পরিপাক তন্ত্রের গ্যাস বলতে পেটের বায়ু জমা হওয়াকে বলা হয়না, যদি ও আমরা সাধারণ ভাবে বুজার জন্যই বলে থাকি, পেট ফুলে বা ফেফে গেলে পেটে গ্যাস হয়েছে ) –
আমরা অনেক সময় ভুল করে পেটে বায়ু হলেই মনে করে নেই এসিডিটির সমস্যা অথবা আলাসার জাতীয় অসুখ হয়ে গেছে ইত্যাদি । বাস্থবে পেটে বায়ু বা গ্যাস অনেক কারনে হতে পারে এবং তা যদি এসিডিটিটির কারনে না হয় তা হলে গ্যাস্ট্রিক জনিত ঔষধ রেনিটিডিন, অমিপ্রাজল ইত্যাদি সেবন করে কোন লাভ হয়না বরং ক্ষতি ই হয়ে থাকে ।
পরিপাকতন্ত্রের বায়ু বা গ্যাস উৎপন্ন হওয়ার সমস্যা সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থকে
ক — পেট ফুলে যাওয়া ( bloating )
খ — ঢেঁকুর ওঠা বা ( burping )
গ– পায়ুপথে গ্যাস বের হওয়া বা (Flatulence) Fart?

 

জেনে নিন – পেট ফুলা এবং ব্যাথা যে যে কারনে হতে পারে –
পেট ফুলে থাকার পেছনে অনেক কারন আছে তার মধ্যে
১- বদহজম অথবা কুষ্ঠ কাঠিন্নতা ( পরবর্তী পর্বে জানতে পারবেন ) লক্ষণ হিসাবে পচা ঢেঁকুর , বুক জ্বলা, বমি বমি এবং সাথে হজম শক্তির অন্যান্য সমস্যা দেখে দিয়ে থাকে ।

২- হাইপার এসিডিটি বা বুক জ্বলা ঃ বিস্তারিত নীচের লিঙ্কে জেনে নিন ঃ (https://helalkamaly.wordpress.com/2015/08/18/%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%95-%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-2-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F/
৩- আই বি এস — বিস্তারিত নীচের লিঙ্কে জেনে নিন ঃ- (https://helalkamaly.wordpress.com/irritable-bowel-syndrom-%E0%A6%AC%E0%A6%BE-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%8B/ )

৪ – ল্যাকটোজ, ফ্রুক্টোজের অসহিষ্ণুতা বা শর্করা এবং ফ্যাট জাতীয় খাবারের অসহিষ্ণুতা ( পর্ব…। ৪- কোষ্ঠবদ্ধতা পর্বে )
অন্ত্রের শোষণ ক্ষ্যামতার অনিয়ম ঃ সাধারণ ভাবে যখন আমাদের জরুরী পুস্টি উপাদান সমূহ অন্ত্রে যখন শোষণ হতে বাধা গ্রস্থ হয় , তখন পেট ফুলা এবং ব্যাথা হতে পারে ( সেলিয়াক ডিজেজ, অন্ত্রে টিউমার, এবং দুগ্ধ ও শর্করা জাতীয় খাবারের এলারজি ইত্যাদি )

৫- – হ্যালিকোব্যাক্টার পাইলরি ব্যাকটেরিয়ার কারনে প্রদাহ ( পেটের আলসারের জন্য ৭০% দায়ী এই ব্যাকটেরিয়া – ) বিস্তারিত ঃ-https://helalkamaly.wordpress.com/2013/08/23/%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AD-%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1/
লক্ষণ হিসাবে পেটে তিব্র ব্যাথা, ঢেঁকুর উঠা সহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয় ।

৬ ই-কলাই অথবা প্যারাসাইট জনিত সমস্যা ( ডায়রিয়া ) বিস্তারিত ঃ
https://helalkamaly.wordpress.com/2013/08/23/%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A6%BF/

৭ — অন্ত্রের যে কোন জায়গায় ছত্রাক জনিত প্রদাহ বা আক্রমন ( গ্ল্যারাডায়াসিস )

৮- কৃমি বিস্তারিত ঃ
https://helalkamaly.wordpress.com/2014/08/29/%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%AE%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%BE-worm-helminths/

৯- আমাশয় , বিস্তারিত ঃ
https://helalkamaly.wordpress.com/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E0%A6%AC%E0%A6%BE-%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF-dysentery-h-kamaly/

১০- খাদ্যে এলারজি প্রতিক্রিয়ায় ও হতে পারে । ( ডিম এবং নাট বেশী দায়ী ) কিছু খাবারের কারণে, যেমন_শিমের বীজ, মটরশুঁটি, ডালজাতীয় খাবার, চর্বিজাতীয় বা তৈলাক্ত খাবার, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার_ঘি, পনির, দই ইত্যাদি অথবা কিছু সবজি যেমন_ওল, আলু, পেঁয়াজ ইত্যাদি।কিছু ফল যেমন_আপেল, কলা ইত্যাদি।

 

এবং বাদ বাকি ১০% বেলায় নীচের ২৩ টি কারনে হতে পারে ঃ-
১১ – অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা ( অন্ত্রের নালী বন্ধ হয়ে গেলে )
১২- Aerophagia বা হেঁচকি ( যা অনেকের অভভাসগত হয়ে যায় )
১৩ খাদ্য থলির অসাড়তা ঃ ( বেশির ভাগ ই যখন পেট খালি থাকে, আবার যখন কিছু খাওয়া হয় তখন খাদ্য থলির মাংস ও পেশির অসাড়তা দেখা দেওয়ায় পেট ফুলা সহ ব্যাথা দেখা দেয় )
১৪- মহিলাদের মাসিক জনিত সমস্যা ( PMS ) মেনপোজ , ডিসম্যানরিয়া ইত্যাদি
১৫- গর্ভজাত ঃ অল্প বয়সে গর্ভ ধারন, গর্ভকালীন সম্যে আঘাত ইত্যাদি
১৬ – ওভারী ঃ- ওভারীতে টিউমার , ওভাররির নালীতে গর্ভ সঞ্ছার অথবা যে কোন ধরনের প্রদাহ জনিত কারনে ওভারীর ক্যানসার জনিত সমস্যা
১৭ – স্যালিয়েক ডিজেজ বা গ্লুটেন জনিত সমস্যা ১৮- হাইটাল হার্নিয়া ( )
১৯- শুল ব্যাথা বা কলিক প্রদাহ ( শিশুদের বেলায় বেশী হয় ) ২০ – পিত্ত পাথর বা প্রদাহ,
২২ – স্প্লিহা বেড়ে যাওয়া, যকৃতের প্রদাহ বা সাখানে চর্বি বেড়ে যাওয়া , অগ্নাশয়ের প্রদাহ
২৩ – জরায়ুর টিউমার বা প্রদাহ জনিত সমস্যা ২৪ – হার্নিয়া ২৫ মুত্র ত্রন্ত্রের প্রদাহ ( UTI)
২৬ এপ্যান্ডিসাইটিস ২৭ ক্রোন ডিজেজে ২৮ বুকের ঝিল্লীর প্রদাহ বা পেরিটনাইটিস
২৯ – স্নায়বিক জনিত ক্ষুদামান্দা বা Anorexia Nervosa ৩০ প্রতিবন্ধকতা জনিত হার্ট ফেইলার (CHF) ৩১ – পেটের পর্দায় পানি জমে যাওয়া বা Ascites
৩২ – পাকস্থলীর ক্যানসার (Gastric Adenocarcinoma) ৩৩ – পেরিফেরাল স্নায়ুরোগ
৩৪ – পলিও
খ — ঢেঁকুর ওঠা বা burping
অসুখ জনিত কারনে ঢেঁকুর উঠার মুল কারন দুটি ১- বদহজম জনিত কারনে ২- এসিডিটি বা বুক জ্বলার কারনে )
এ ছাড়া ও অতিরিক্ত হেঁচকি উঠা, হায়াটাস হার্নিয়া, চিনি-জাতীয় খাদ্য শোষণজনিত সমস্যা, ইউরেমিয়া, পেপ্টিক আলচার, পিত্ত পাথর , কলিক ব্যাথা, আই বি এস , প্যারাসাইট অথবা এইচ পাইলোরি ব্যাক্টোরিয়া জনিত প্রদাহ , ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর ও ডায়াফ্রামের ইরিটেশন, পাকস্থলীর ক্যানসার , অন্ত্রের প্রতিবদ্ধকতা , মানসিক উদ্বেগে ইত্যাদি কারনে ঢেঁকুর উঠতে পারে ।
কিছু অভ্যাসগত কারনে হতে পারে যেমন
খাবার গ্রহণের সময় অপ্রয়োজনে বেশি বেশি ঢোক গিললে, কথা বেশি বললে, বারবার পানি পান করলে পাকস্থলীতে বাড়তি বাতাস পরিবেশ থেকে প্রবেশ করলে ।– ধূমপান, হুঁকো বা পাইপ খেলে – কোল্ডড্রিংকস বা সোডা-জাতীয় পানীয় বেশি বেশি পান করলে।- জুস বা কোনো ড্রিংকস পানের সময় স্ট্র ব্যবহার করলে। চুইংগাম বা চিবিয়ে খেতে হয় এমন খাবার বেশি খেলে।

 

 

গ — পায়ুপথে গ্যাস বা ফারট (Flatulence)
পায়ু পথে বায়ু বের হওয়া একটি ন্যাচারেল বিষয় – তারপর ও যদি নিয়ম অতিরিক্ত অথবা দুর্গন্ধ যুক্ত বায়ু নির্গমন হয় তা হলে ৯০% বেলায় ডাইজেস্টিভ যে কোন একটা সমস্যা আছে বলে মনে করা হয় এবং সেই সাথে যদি পেটের কোথায় ( অন্ত্রের ) ব্যাথা উপলব্ধি হয় তা হলে অবশ্যই সাথে ব্যাক্টোরিয়ার আক্রমণ মনে করে নিতে হবে ।
কীভাবে পায়ু পথের গ্যাস বা ফারট উৎপন্ন হয় ?

প্রথমত আমরা মুখ দিয়ে যখন কোন খাবার খাই তখন কিছু বাতাস ও খাদ্য পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিডি ও অন্যান্য এনাজাইমের দ্বারা পচিত হয়ে পরিপাক হয়ে ক্ষুদ্রন্ত্রে যায় এবং সেখানে পাচনের মাধ্যমে খাদ্য সমূহ হতে পুস্টি সম্পন্ন উপাদন সমূহ ভিলাই সমূহ চুষে নেয় বাকি অবশিষ্ট পদার্থ সমূহ বৃহদান্ত্র হয়ে কোলনে এবং পরবর্তীতে রেক্টামে মল হিসাবে জমা হয় কিন্তু কোন কারন বশত এই খাদ্য সমূহ ঠিকমত হজম না হলে তার সাথে কিছু ব্যাক্টোরিয়া যুক্ত হয়ে প্রচুর পরিমানে বায়ু উৎপাদন করে – ইহাই পায়ু পথের গ্যাস বা ফারট – মনে রাখবেন মলাশয়ে প্রায় ৪০০ প্রকৃতির ব্যাকটেরিয়া বাস করে ।

 

পেটের বায়ুতে দুর্গন্ধ বেশী কেন হয় ঃ-
মুলত গন্ধহীন বায়ুতে , যদি ঠিকমত খাবার হজম হয় তাহলে অল্পপরিমান অক্সিজেন এবং কিছু ক্ষেত্রে, মিথেন, সহ বিভিন্ন পরিমাণে নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়ে থাকে কিন্তু যখন খাবার হজম হয়না এবং সেই সাথে কিছু ব্যাক্টোরিয়া সক্রিয় হয়ে উক্ত পাচন খাবার থেকে ডাইমিথাইল সালফাইড বা হাইড্রোজেন সালফাইড উৎপাদন করে যার কারনে গন্ধ যুক্ত বায়ু নির্গমন হয় – অর্থাৎ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল নালীর মধ্যে সালফার এবং ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতির কারনেই পায়ু পথের বায়ুতে বেশী দুর্গন্ধ হয় ।

 

 

দুগন্ধ যুক্ত বায়ু আসলে কি কি অসুখের লক্ষণ মনে করা হয় ঃ-
প্রথমেই মনে করা হয় পরিপাক নালীর যে কোন একটা অসুবিধা আছেই- তার মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যতা , আই বি এস , মিঠা ও চর্বি জাতীয় খাবারের অসহিষ্ণুতা , প্যারাসাইটের আক্রমণ ( ডিসেন্ট্রি জাতীয় যা সালফার ব্রিদ্দি কারক সবজি থেকেই হয়ে থাকে , যার গন্ধ পচা ডিম বা পচা বাঁধাকপির গন্ধের মত ) গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ইনফেকশন, গ্লুটেনের অসহিষ্ণুতা ( সেলিয়াক ডিজেজ, যা বেশির ভাগ ময়দা জাতীয় খাবার থেকে হয়ে থাকে ) , পুস্টির শোষণ ক্ক্যামতার যে কোন অসুবিধা, অথবা পরিপাক তন্ত্রের যে কোন সারজারি অথবা ক্যানসার জনিত চিকিৎসায় ও হতে পারে তবে তা গন্ধহীন , ইত্যাদি

 

 

চিকিৎসা ও ব্যাবস্থাপনা ঃ-
প্রথমেই দেখতে হবে অন্য কোন অসুখের কারনে বায়ু বেশী উৎপাদিত হইতেছে কিনা , যদি হয়ে থাকে সেই অসুখ কমে গেলে তা এমনিতেই চলে যাবে ।। যদি অন্য কোন অসুখের কারনে না হয় তা হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই , জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করলে কিছু দিন পর এমনিতেই সেরে যায় – তারপর ও কিছু জেনে রাখা ভাল —
এক সাথে বেশী না খেয়ে প্রতি দিন অল্প অল্প করে সারা দিনের খাবার ৪/৫ বারে খাবেন এবং খাবার সমূহ ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাবেন – খাবারের মধ্যে যত পারেন পানি কম পান করুন —
যাদের ল্যাকটোজ জাতীয় খাবারে অসহিষ্ণুতা তাহারা দুধ, পনির , বা ঐ ধরনের ফ্যাট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলবেন তবে যাদের ডায়রি প্রোডাক্টসে অসহিষ্ণুতা নাই তাদের জন্য ল্যাকটোজ জাতীয় খাবার বরং হজম শক্তি কে ব্রিদ্দিই করে —
কিছু সালফার সমৃদ্ধ ও আশ যোক্ত খাবার কম খেতে হবে, যেমনঃ মটরশুটি, ডাল, আলু, গম, বাদাম, কিশমিশ, পেঁয়াজ, রসুন, মূলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি এবং স্প্রাউট ইত্যাদি ।
প্রচুর ফ্রক্টুস উৎপাদক কিছু খাবার, যেমন খাজুর , মিষ্টি, কেক বিস্কুট ইত্যাদি কম খাওয়া ভাল । ( অনেকের এই সব খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই বায়ু নির্গমন হতে থাকে ) । নিয়মিত ব্যায়াম করুন , ধূমপান থেকে বিরত থাকুন ।

কিছু কারবনেট ড্রিংক ( পেপসি , কোকাকোলা ), ফ্রূট ড্রিংক, এবং চুইঙ্গাম খাবার থেকে বিরত থাকুন …
এন্টি-গ্যাস ঔষধ হিসাবে মিলান্টা ( Mylanta II, Maalox II, Di-Ge ) অথবা কাউন্টার মেডিসিন হিসাবে বিসমাথ সাবগ্যালেট bismuth subgallate (such as Beano) ব্যাবহার করে দেখুন চলে যাবে । তারপর ও যদি না কমে তা হলে – চারকেল ট্যাবলেট কিছুদিন সেবন করলে ৮০% বেলায় থাকার কথা নয় ।
অথবা
নিউট্রেশনাল এবং ভেষজ হিসাবে নিম্নের ব্যাবস্থা গ্রহন করে দেখতে পারেন , যা অনেক সময় ভাল ফল পাওয়া যায় —
বেকিং সোডা এবং লেবুর রস ঃ- ২০ মিলিঃ লেবুর রস এবং চোট এক চা চামছের এক চামছ বেকিং পাউডার এক গ্লাস পানিতে ভাল ভাবে মিশিয়ে সেবন করুন – দেখবেন ২০ মিনিটের ভিতর সুন্দর একটা পরিবর্তন হয়েছে – ( প্রতিদিন দুবার ) বা বায়ু নির্গমন হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে । ( প্রমাণিত )
কয়েক টুকরা আদা কে ভাল্ভাবে গুড়িয়ে সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে সেবন করলে ভাল ফল পাওয়া যায় । ( প্রমাণিত ) অথবা এক চামচ কাল জিরা ভাল ভাবে গড়িয়ে এক কাপ উষ্ণ গরম পানিতে মিশয়ে খাবারের আধা ঘন্টা আগে সেবন করুন দেখবেন অনেক টা ভাল ফল পাইতেছেন । মেন্থল চা দিনে ৩/৪ বার পান করলে ও কিছুটা উপকার পাওয়া যায় ।
অথবা সাপ্লিমেন্টারী হিসাবে , আলপা- গ্ল্যাকোটসাইড এবং প্রো-বায়োটিক্স বায়ু উৎপাদন বন্ধ করতে খুব ভাল কাজ করে —  Thanks ( Dr.H.Kamaly )

 

 

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

আপনার অভিমত

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

আর্কাইভ

স্বাস্থ্য

%d bloggers like this: