আপনার স্বাস্থ্য

ডাঃ হেলাল কামালি

ঘুম – ৪থ পর্ব ( স্লিপ এপনিয়া বা শ্বাস বন্ধ হওয়া কী এবং নাক কেন ডাকে — মেডিক্যাল সাইন্স অনুসারে )

Ref from:- CRICBristol ( MSU of Bristol ) National sleep foundation ( NHS )- Royal collage of Physician ( UK ) Professor A J Williams ( Sleep Specialist- Sleep council, Bristol ) and loots– Created by : Dr.H Kamaly

in 50

স্লিপ এপনিয়া বা শ্বাস বন্ধ হওয়া কী এবং নাক কেন ডাকে

 

এপনিয়া- গ্রীক শব্দটির অর্থ শ্বাসহীনতা অর্থাৎ স্লিপ এপনিয়া বলতে বুজায় ঘুমের ভেতর শ্বাস বন্ধ হওয়া। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, ঘুমের মধ্যে যদি ১০ সেকেন্ড বা তার অধিক সময় নিঃশ্বাস সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ হয়ে যায় এবং সে কারণে রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৩ শতাংশের বেশি নেমে যায় । তাকেই স্লিপ এপনিয়া বলে এবং ঠিক তখনি শ্বাস নালি দিয়ে দিয়ে বাতাস আদান প্রদান করতে ফ্যাংরিসের উপর যে কোন কারনে চাপ সৃষ্টি হলেই নাক ডাকে । মুলত নাক ডাকে অন্য অসুখের কারনে এবং স্লিপ এপনিয়া- সম্বন্ধে ভাল করে না জানলে নাক ডাকা সম্মন্ধে বুজা সম্বভ হবেনা । ( বিস্তারিত নিচে দেওয়া আছে )

স্লিপ এপনিয়া- তিন ধরনের হয়ে থাকে – ১. নাক ও গলায় যে কোন বাধাজনিত অবস্থায় (অবসট্রাকটিভ প্রি এপনিয়া- ) – ২. মস্তিষ্কের ক্ষেন্দ্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটিগত কারনে ( সেন্ট্রাল স্লিপ এপনিয়া ) ৩. মিশ্র ধরনের এপনিয়া-

এই তিন প্রকারের মধ্যে বাধাজনিত এপনিয়া- ৯০% বেলায় শ্বাসহীনতা হয়ে থাকে এবং নাক ডেকে থাকে । তবে মনে রাখবেন মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রিনহিন অবস্থায় যদি এপনিয়া- দেখা দেয় এবং চিকিৎসা না করান তা হলে আস্থে আস্থে এই শ্বাসহীনতা এক মিনিট বা তারও বেশি স্থায়ী হতে পারে বা কখনো সারা রাতে শত শত বারের জন্য হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে যে কোন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার সম্বাভনা ১০০% । মানুষ ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে মারা যাওয়ার বিশেষ একটি প্রধান কারন এই স্লিপ এপনিয়া-

 

 

নাক ডাকা এবং স্লিপ আপনিয়া কিভাবে বা কেন হয় ?

( আমার মতে ভাল করে বুঝতে হলে আমরা কিভাবে শ্বাস নেই সে সম্বন্ধে কিছুটা ধারনা থাকার দরকার )

আমরা নাক বা মুখ দিয়ে যে বাতাস গ্রহণ করি তা ফ্যারিংস বা গলবিল হয়ে ল্যাংরিস বা স্বরযন্ত্র হয়ে প্রবেশ করে ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালিতে। সেখান থেকে ব্রনকাস বা ক্লোমনালি হয়ে ব্রনকিওল বা ক্লোমনালিকা হয়ে পৌঁছে অ্যালভিওলাস বা ফুসফুসের বায়ুথলিতে। নিঃশ্বাস ফেলার সময় বাতাস আবার এই পথেই ফেরে। আমাদের এই শ্বাসপথের সবচেয়ে কোমল অংশ হলো ফ্যাংরিস বা গলবিল, যার পুরোটাই তন্তু ও মাংসপেশি দিয়ে তৈরি। স্বাভাবিক অবস্থায় ফ্যাংরিসের আকার বেশ গোলাকার এবং বেশ খানিকটা জায়গাজুড়ে থাকে। কিন্তু ঘুমানোর এর আয়তন ছোট হয়ে যায়। বিশেষ করে চিত হয়ে শুয়ে ঘুমালে জিভ ঝুলে পড়ে ফ্যাংরিসের দিকে। তালু, ফ্যাংরিস ও জিভের মাংসপেশি শিথিল হয়ে পড়ে। ফলে বাতাস চলাচলে বাধা পায় এবং ধাক্কা খায়। এই বাধা বা ধাক্কার ফলে নরম তালু বা সফট প্যালেটে কম্পন হয় এবং তখন নাক ডাকে।

সে সময় অনেকের কয়েক সেকেন্ডের জন্য ( অন্তত ১০ সেকেন্ড ) ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালিপথ বন্ধ বা কলাপস হয়ে যায়। এ অবস্থায় রোগী একটু জোরে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয় না। ফলে রোগীর ব্রেইনে অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দেয়। ব্রেইন তখন বাধ্য হয়ে রোগীকে জাগিয়ে তোলে। ফলে রোগী হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করে । তখন জেগে জেগে বেশ কিছুক্ষণ শ্বাস নেয়ার পর একটু স্বস্তি লাগে আর এই কয়েক সেকেন্ড শ্বাস বন্ধ থাকাকেই স্লিপ এপনিয়া- বলা হয় ।

অন্যদিকে মস্তিষ্কের কারনে হলে- যখন ব্রেইন শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে জড়িত মাংসপেশিগুলোকে নির্দেশ দেয় সুন্দরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু যে কোন কারনে যদি ব্রেইন এ ধরনের নির্দেশ না পাঠায় তখন স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। অথবা ব্র্র্রেইন হয়তো নির্দেশ পাঠালো কিন্তু মাংসপেশিগুলোকে ঠিক মত নির্দেশ পালন করেনা তখনি শ্বাসহীনতা বা এপনিয়া- দেখা দেয় । তবে মস্কিষ্কের কারণে যখন এপনিয়া- হয়, তখন কোন প্রতিবন্ধক থাকে না, বরং যেসব মাংসপেশী শ্বাস নেবার কাজ করে তারা সংকেত পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকে ।

মিশ্র কারণে এপনিয়া- হলে দুটো প্রক্রিয়াই জড়িত থাকে এক সাথে। প্রতিবার এপনিয়া- হলে মস্তিষ্ক অল্প সময়ের মধ্যে রোগীকে জাগিয়ে দেয়। যাতে করে সে শ্বাস টানতে পারে। কিন্তু এভাবে তার ঘুম হয়ে পড়ে দারুণভাবে খণ্ডিত এবং নিম্নমানের। রেম স্লিপ বা গভীর ঘুমে প্রবেশের আগেই রোগী জেগে যায়।

 

 

সাধারণ ভাবে যে যে কারনে নাক ডাকে ঃ-

 

নাকের পার্টিশনের হাড় বাঁকা থাকলে, নাকে পলিপ বা কোনো টিউমার থাকলে, অ্যালার্জি বা নাক বন্ধ থাকলেও নাক ডাকে। গলার বিভিন্ন অসুখেও নাক ডাকে। ( টনসিল, বড় জিভ, লম্বা আলজিভ, ছোট চোয়ালের হাড়, তালুতে প্যারালাইসিস, সিস্ট, পলিপ ইত্যাদি। এছাড়াও অতিরিক্ত মেদ, মদ্যপান, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, মাদকাসক্তি, থাইরয়েডের অসুখ, স্নায়ুঘটিত রোগ, হার্টবাফুসফুসেররোগইত্যাদি অসুখ জনিত কারনেই নাক ডাকে ।

কাদের বেশি হয় এবং পরবর্তীতে স্থায়ী ভাবে স্লিপ এপনিয়া- ভোগার সম্বাভনা আছে ঃ-

এটা সাধারণত বড়দের রোগ এবং শিশুরা খুব কম ক্ষেত্রে আক্রান্ত হয়। মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা সাধারণত এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে বয়স ৫০ পার হলে মহিলা পুরুষ উভয়ই সমানভাবে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বয়স্কদের স্লিপ এপনিয়ার হার কম বয়সীদের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের স্লিপ এপনিয়ার হার দুই গুণ বেশি।

যাদের ওজন বেশি ( বিশেষ করে মেদ ভুঁড়ি বেশী – তাদের বেলায় বয়সের কোন সম্পর্ক নাই-স্থূলকায় ব্যক্তিদের গলার ভেতর অতিরিক্ত চর্বি জমে অনেক সময় শ্বাসনালিকে সরু করে দেয় ) – জন্মগতভাবে চোয়ালের হাড়ে সমস্যা– অ্যালকোহল বা ঘুমের ওষুধ সেবনকারীর – যাদের টনসিল অথবা এডিনয়েড আকারে বড় হয়ে যায় – খুব বেশী ধুম পান করেন যারা – হঠাৎ করে শোয়ার পরিবর্তন – হার্টের অসুখ ( করোনারি আর্টারি ডিজিজ স্লিপ এপনিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় হয় ) – ডায়াবেটিস ( টাইপ টু দের বেলায় বেশী হয় ) –

এ ধরনের রোগীরা সাধারণত একটু ঘুমালেই নাক ডাকতে থাকে। কেউ যদি এ জাতীয় রোগীর পাশে শুয়ে থাকেন, তাহলে দেখবেন এরা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে নিশ্চুপ হয়ে যায় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘুম থেকে জেগে খুব তীব্রভাবে শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করে।

 

 

স্লিপ এপনিয়ার লক্ষণ ঃ-

 

যদিও নাকডাকাস্লিপএপনিয়ারপ্রথম লক্ষণ। সেই সাথে রাতেনাকডাকিয়েথেকেথেকেনিশ্বাসবন্ধহয়েযায়(অল্প সময়ের জন্য-at least 10 seconds when breathing stops ) আবার কিছুক্ষন পর নিশ্বাস বন্ধ হলে , হঠাৎ জেগে যান এবং কখনও বা হাতপা বা পুরো শরীর কেঁপে ওঠে — জেগে উঠেই আবার ফের ঘুমিয়ে পড়েন– এভাবে সারা রাতে অনেক বার হতে পারে । ( এর কারণ ক্ষণিকের জন্য আপনার শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যায়। )

প্রায় দিন – ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাটা ভারী বোধ হওয়া এবং দিনের বেলায় ঘুম ঘুম ভাব – এবং ক্লান্ত বোধ করা — সকালের মাথা ব্যাথা , মুখ শুকিয়ে যাওয়া , গলা ব্যাথা ও কাশির ভাব — মুড ভিশন্নতা ও কিছু ভাল না লাগা — কোন কিছু ভাল করে মনে মনে রাখতে না পারা — মাঝে মধ্যে বিনা কারনে উচ্চ রক্ত চাপ পরিলক্ষিত হওয়া । কখন ও এ রকম অনেকে মনে করেন একাধিকবার প্রস্রাব করার জন্য হয়তো তার ঘুম ভেঙে গেছে ? আসলে তা কিন্তু সত্য নয়। এ ছাড়া স্লিপ এপনিয়ার রোগী ঘুমের ঘোরে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে, এমনকি সঙ্গীকে হাত-পাদিয়েআঘাত ও করতে পারে ।

এ ধরনের রোগীরা যতক্ষণই ঘুমাক না কেন, ঘুমের পর অতৃপ্তি থেকেই যায়। রোগের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীদের আরো নানা সমস্যা দেখা দেয়। যেমন কর্মদক্ষতা কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, ছোটখাটো কারণে বাসায় ও কর্মক্ষেত্রে ঝগড়াঝাঁটি লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ রোগীদের যৌন ক্ষমতা ও আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পায়। এ ধরনের রোগীদের রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি – কর্মক্ষেত্রে অসফলতা ও বিষন্নতার হারও তাঁদের বেশি। হূদেরাগের আশঙ্কাও বেশি অন্যদের চেয়ে।

বাধাজনিত বা অবসট্রাকটিভ প্রি এপনিয়া- শ্বাসতন্ত্রে গলার পিছন দিকের অংশে নরম টিস্যুগুলোর বুজে যাওয়ার প্রবণতা থেকে উৎপন্ন হয় বলে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া- রোগীদের উচ্চ শব্দে নাক ডাকে। তাদের নাক ডাকার ধরনটি হয় অস্বাভাবিক। থেমে থেমে এবং হাঁপানির মতো করে শ্বাস ছেড়ে তারা নাক ডাকে। সাধারণ অ্যাপনিয়ার লক্ষন ছাড়া ও – বদমেজাজ- bedwetting- রাতে অত্যধিক ঘাম , ভয় জাতীয় আক্রমণাত্মক স্বপ্ন দেখা যায় । সর্দিকাশি , সাইনুসাইটিস, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, টন্সিলাইটিস, নাক ও শ্বাস তন্ত্রের যে কোন ধরনের ইনফেকশন ও বাঁধা জনিত কারনে নাক ডাকা সহ শ্বাসহীনতা দেখা দিতে পারে এবং এই সব সমস্যা সমাধান করতে পারলে পরবর্তীতে তা এমনিতেই চলে যায় ।

মস্তিষ্কের ক্ষেন্দ্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটিগত কারনে শ্বাসহীনতা ঃ- – এ অবস্থায় মুলত মস্তিষ্কের পন্স ( Pons” means “bridge” in Latin, and the pons functions as a bridge between different parts of the brain. It also controls sleep and consciousness ) মাংশ পেশীকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যাথ হয় তখন ঘুমের মধ্যে শ্বাস হীনতা দেখা দেয় । মুলত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল সিস্টেমের কারনে যদি স্লিপএপনিয়া দেখা দেয় তাহলে – অনেক সময় ব্রেইন ইনফেকশন , স্ট্রোক, সারভাইক্যাল স্পাইন, হার্ট ফেইলার , ডায়াবেটিস টাইপ টু- অথবা নিউরমাস্কুলারের জাতীয় অসুখের প্রাথমিক লক্ষন বলে মনে করা হয় । সেন্ট্রাল মস্তিষ্কের কারনে শ্বাস হীনতা দেখা দিলে রোগীর নাক ডাকার সাথে সাথে সারা শরীর কেঁপে কেঁপে উঠে এবং ঘুমের প্রতিটি স্থরেই এভাবে করতে থাকে । পাশের কেউ দেখলে মনে হবে চেতনা নাশক কিছু সেবন করে ঘুমিয়েছেন — এবং স্লিপএপনিয়ারলক্ষন ছাড়া ও গিলতেসমস্যা, স্বরের পরিবর্তন , সারা শরীরের দুর্বলতাবাঅসাড়তা অন্তর্ভুক্তথাকতেপারে ।

 

 

রোগ নির্ণয় ঃ-

স্লিপ অ্যাপনিয়া নির্ণয়ের জন্য স্লিপ সেন্টারগুলোতে ঘুমন্ত অবস্থায় দেহের নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। ঘুমের প্রকৃতি, চোখের নড়াচড়া, মাংসপেশীর তৎপরতা, হৃদযন্ত্রের গতি, গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতির পলিসমনোগ্রাফি, ফুসফুসের ফাংশন, স্পাইনাল কর্ডের এম আর আই, অক্সিজেন ইয়ার ফ্লু ক্যাপাসিটি ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। তবে এর আগে অবশ্যই রোগের ইতিহাস যেমন_নাক ডাকা, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, দিনের কাজের সময় অতিরিক্ত ঘুম-ঘুম ভাব_এসবলক্ষণআছেকিনাদেখতেহবে।

 

 

চিকিৎসা ও ব্যাবস্থাপনা ঃ-

 

স্লিপ এপনিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে এর প্রকার ও তীব্রতার ওপর। ( অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া ও সেন্ট্রাল স্লিপ এপনিয়া আক্রমণের উপর নির্ভর করে ) মনে রাখবেন সেন্ট্রাল স্লিপ এপনিয়া ব্রেইন বা মস্তিষ্কের কারণে হয়। এর মুল কারণ সাধারণত হার্ট ফেইলিওর, লিভার ফেইলিওর এবং এ ধরনের এপনিয়ার চিকিৎসার মানে ওই সব রোগের চিকিৎসা করা।

 

তার আগে অভ্যাসগত জিবন দ্বারার কিছু দিক পরিবর্তন করতে হবে ঃ-

শোয়ার স্টাইল পরিবর্তন করতে হবে কারণ চিত হয়ে শুয়ে থাকলে স্লিপ এপনিয়া বাড়ে-সে জন্য একপাশে কাত হয়ে শোয়ার অভ্যাস করুন এবং যদি সাইনাস বা ফুসফুসের ফ্লেইমের কারনে নাক বন্ধ থাকে তাহলে যে দিক দিয়ে বন্ধ থাকে তার বিপরিত দিকে কাত হয়ে শুঁয়া ভাল ।

বালিশ দিয়ে ঘুমালেও খুব বেশী নরম বা ফোম জাতীয় তুলার বালিশ দিয়ে না শুঁয়া ভাল এবং বুকে জড়িয়ে ধরার বালিশ ব্যাবহার থেকে বিরত থাকতে হবে – শুঁয়ার বালিশ ৪ইঞ্চিউঁচুথাকা ভাল ।

ওজনকমানোর চেস্টা করেন বা মেদ ভুঁড়ি বেশী থাকলে তা নিয়ন্ত্রিত করার চেস্টা করুন – ( মনে রাখবেন শরীরের ১০ভাগওজনকমাতে পারলে ২৫ ভাগ স্লিপএপনিয়াএমনিতেই কমে যায় )

এ ছাড়া অ্যালকোহল, ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি পান থেকে বিরত থাকুন ও ঘুমের ঔষধ সেবন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন ।

টনসিলের প্রদাহ থাকলে তা যাতে রাতের বেলায় একটু স্পিতি হয়ে থাকে সেই ব্যাবস্থা গ্রহন করুন ( বেশীর ভাগ টনসিলের প্রদাহ রাতের বেলায় ই বেশী প্রদাহ বাড়ে , সে জন্য হাল্কা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলুকুছা করতে পারেন ) । এলারজি, সদিকাশি ইত্যাদি থাকলে তা যতটুকু সম্বভ প্রতিহিত করে রাখার চেষ্টা করুন –

সুষম খাবার ও ডায়েট করার চেষ্টা করুন ঃ- বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়াম খনিজ যে খাবারে বেশী থাকে ( Magnesium is a mineral that is vital to muscle regulation ) – কিছু মিউকাস বাহির করে এমন সব খাবার দুই তিন সপ্তাহ খেয়ে দেখতে পারেন, যেমন কলা । ডায়েট কন্ট্রোলের জন্য খ্যাত ক্রুমিয়াম যোক্ত খাবার একটু বেশী করে খেতে পারেন , যেমন – বারকলি অথবা গ্রিন শাঁক ইত্যাদি । মেদ ভুঁড়ি থাকলে ( মেদ ভুঁড়ি পর্বে বিস্তারিত দেখুন )

 

 

নিয়মিত ব্যায়াম ঃ-

 

নিয়মিত ব্যামের মধ্যে হাটা, সাঁতার কাটা এবং সাইকেল চালানো ই সবচেয়ে ভাল ব্যায়াম — । সেই সাথে স্লিপ এপ্নিয়ার জন্য থ্রোট এক্সারসাইজ এবং ল্যান্স ক্যাপাসিটি রেগুলেশন এক্সারসাইজ নিয়মিত করতে পারেন –

যেমন ঃ- প্রতিটি শব্দ (A,E,I,O,U) উচ্চস্বরে বারবার বলেন ৩ মিনিট ধরে– জিহ্বা উল্টো করে ৩ মিনিট ধরে রাখুন এবং পরে ৩ বার দীর্ঘ শ্বাস টানুন – মুখ বন্ধ করে ঠোঁট কাঁপান ৩০ সেকেন্ড করে ৩ বার – মুখ খোলা রেখে চোয়াল ডান দিকে ৩০ সেকেন্ড আবার বাম দিকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন – মুখ হা করে আলজিহবা উপরে-নিচে নামানো ৩০ সেকেন্ড করে –

( এরপর ও যদি দেখেন শ্বাস হীনতার আক্রমন বেড়েই চলছে তাহলে গৃহিণী অথবা কর্তা কে বলবেন কানে তুলা দিয়ে খাটের নিচে শুয়ে থাকতে ! আর যিনি ভুক্ত ভোগী তিনি যেন নিচের পদ্ধতি সমুহ অনুসরণ করেন । )

সাধারণতযেনাকডাকেসেটেরপায়নাযেনাকডাকছে।বেশিরভাগসময়ইতারসঙ্গীবাআশপাশেরলোকেরানাকডাকারবিষয়টিলক্ষকরে।

 

অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়ায় মূলত গলবিলের গহ্বর সংকুচিত হয়ে থাকে বিধায় এর তিন রকমের চিকিৎসা পদ্দতি অনুসরণ করেন বিশেষজ্ঞরা ঃ-

তারমধ্যেসবচেয়েসফলচিকিৎসাহলোসিপিএপিবাকন্টিনিউয়াসপজিটিভএয়ারওয়েপ্রেশার পদ্ধতি ( Continuous Positive Airway Pressure (CPAP) এটি খুব ছোট একটি যন্ত্র, যা রোগীর নাসারন্ধ্র দিয়ে গলার ভেতরে একটি পজিটিভ প্রেশার তৈরি করে। ফলে রোগী ঘুমিয়ে থাকলে গলার চারদিকের মাংসপেশি সংকুচিত হতে পারে না, রোগীর নাক ডাকে না এবং রোগীর নিঃশ্বাস বন্ধ হয় না। রোগী যখন ঘুমিয়ে থাকবে, তখন এটি ব্যবহার করতে হয় । অন্য আরেকটি পদ্দতি আছে যা রোগীর দুই দাঁতের ফাঁকে একটি ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবহার করা হয় ইত্যাদি ———- । ( বিশেষ কিছু দিক বিবেচনা করে অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নাক, তালু, গলবিল ও মাংসপেশি কেটে ফেলার কথা ও বলতে বলেন অথবা গলবিলের দেয়াল থেকে চর্বি কেটে বাদ দেওয়ার পরামর্ষ দিতে পারেন )

 

 

ওষুধের সাহায্যে চিকিৎসা ঃ– ( মনে রাখবেন নাক ডাকা বন্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট কোন ঔষধ নাই )

 

কিছু কিছু ঔষধ আছে যা মাস্ক ব্যাবহারের সাথেই চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন, যেমন অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়ার জন্য Modafinil (Provigil) — গ্রুফের নতুন ঔষধ চিকিৎসকের পরামর্ষে ব্যাবহার করতে পারেন – 200 mg orally daily in the morning – ( যারা দিনের বেলায় কাজে ভ্রমণে ইত্যাদি করতে ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাস – তাদের জন্য ঔষধ টি খুব সুন্দর কাজ করে – নারকল্যাপ্সি )

ছরমিয়াম নিউট্রেশনাল সাপ্লিমেন্টারি হিসাবে বেশ ভাল ফল দায়ক – যদিও সারা পৃথিবী জুড়ে ওজন হ্রাস করার জন্য ক্রিড়াবিদরা ঔষধ টি ব্যাবহার করে থাকেন কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবি মারাত্মক বিশেষ করে হার্ট ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য । ( Adults should aim for about 25 to 35 mcg. of this element per day )

সাধারণ টুকিটাকি হিসাবে , আদা এবং দারচিনী এককাপ টাটকা গরম পানিতে মিশিয়ে তার মধ্যে একচামচ মধু মিশিয়ে ঘুমে যাওয়ার এক ঘন্টা আগে পান করলে কিছুটা ভাল বা শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কিছুটা উপকার পাওয়া যায় ( সেডেটিভের মত ) ।

সেন্ট্রাল স্লিপ এপনিয়া- ৮০% বেলায় হার্টের অসুখের পূর্ব লক্ষন ( হার্ট ফেইলার- অথবা স্ট্রোক ) বিধায় ভাল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কে দেখিয়ে এর যতাযত ব্যাবস্থা গ্রন করা উচিৎ । তবে নাক ডাকার জন্য এয়ারওয়ে প্রেশার পদ্ধতির ( CPAP ) সাথে Acetazolamide অথবা Clomipramine (Anafranil) গ্রোফের ঔষধ সমুহ বিশেষজ্ঞরা ব্যাবহারের সুপারিস করে থাকেন । জরুরী ক্ষেত্রে সে সময় অক্সিজেন মিক্স ইয়ার থ্যারাপি ও ভাল উপকার পাওয়া যায় —

এরপর ও যদি কাজ না হয় তা হলে বিশেষজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কারনের সার্জারি ছাড়া অন্য কোন বিকল্প ব্যাবস্থা নাই ।

Acupuncture

আকুপাংচারের auriculotherapy কিছুটা সহায়ক ।

 

 

জঠিলতা ঃ-

স্লিপএপানিয়াবেশিরভাগসময়মারাত্মককোনোরোগেরইঙ্গিতবহনকরে।যেমন: হার্টের রোগ, হার্ট ফেইলুর, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন , মস্তিষ্কের রোগ,জন্মগত কোনো ত্রুটি, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, টাইপ টু ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, ইত্যাদি অসুখ সমুহের পূর্বাবাস ।

উচ্চ রক্তচাপের এ-যাবৎ কতগুলো কারণ নির্ণয় করা হয়েছে, তার মধ্যে স্লিপ এপনিয়া অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ছাড়া স্ট্রোক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ স্লিপ এপনিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় হয়।

স্লিপএপনিয়ারোগীদেরশ্বাস বন্ধহওয়ারফলেশরীরেঅক্সিজেনেরমাত্রাকমেযায়।ফলেরক্তনালিরদেয়ালেক্ষতহয়, যা পরবর্তী সময়ে রক্তনালিতে চর্বি জমাট বাঁধতে সাহায্য করে অথবা রক্তনালির স্ক্লেরোসিস করতে পারে। এ ছাড়া হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত বা কার্ডর্িয়াক অ্যারিথমিয়া হয়ে রোগীর আকস্মিক মৃত্যু হওয়া অসম্বভ কিছু নয় । মুলত এ কারণেই কিছু মানুষ ঘুমের মধ্যেই বিনা কারনে মারা যেতে দেখা যায় ।

আর ও বিশধ ভাবে জানতে হলে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন — ধন্যবাদ ( ডাঃ হেলাল কামালি )

http://www.helpguide.org/articles/sleep/sleep-apnea.htm

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

আপনার অভিমত

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

আর্কাইভ

স্বাস্থ্য

%d bloggers like this: