আপনার স্বাস্থ্য

ডাঃ হেলাল কামালি

ঘুম – ২য় পর্ব ( অনিদ্রা বা INSOMNIA – ২য় খন্ড )

( বিঃ দ্রঃ এই পর্বে যা আছে – অনিদ্রার কিছু ঔষধের সুফল এবং কুফল ও পার্স প্রতিক্রিয়া । নিউট্রেশনাল ও ভেষজ ঔষধ এবং কিছু বিকল্প ব্যাবস্থা – যা এফ ডি এ – কৃতক অনোমুদিত । তবে চিকিৎসকের পরামর্ষ ছাড়া , ঔষধ সমুহের  ব্যাবহার সম্পূর্ণ বেআইনি বা এর জন্য কেউ দায়ী থাকবেনা – ডাঃ হেলাল )

রিসার্চ অনুসারে  যা প্রমাণিত তাই তুলে ধরলাম ঃ- ( দীর্ঘদিন ঘুমের ঔষধ সেবন করলে কি হয় বা কেন সেবন করতে ব্যাধ হন অনেকেই ? )

in 21

ঘুমের ঔষধ সেবনে স্নায়ুতন্ত্রের নার্ভ রিসেপ্টর সমুহে ডোপামিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশী নিঃসরণ করে , ফলে প্রচুর পরিমাণে নিউরোট্রান্স মিটার উৎপন্ন করে এবং করটিসলের মাত্রা কমিয়ে রাখে , কিন্তু মস্তিষ্কের নিউরন সমুহ তাথে অভ্যস্থ হয়ে পরে , অন্যদিকে প্রতিনিয়ত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয়ে মস্তিষ্কের নিউরন সমুহ ঔষধের উপর আসক্তি বেড়ে যায় –

যদি প্রথম প্রথম একটা ট্যাবলেট খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুম চলে আসে বা মনে শান্তি আসলেও পরবর্তীতে ঔষধের টলারেন্স বৃদ্ধি করতে হয় তখন একটি ট্যাবলেটে আর সে রকম কাজ করেনা – বরং মানসিক ভাবে রোগির অজান্তেই নিদ্রাহীনতা তীব্রভাবে ফিরে আসার পাশাপাশি অস্থিরতা,বিরক্তি,বিষন্নতা বা মন খারাপ করে থাকা সহ অন্যান্য ভয়ানক মানসিক রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে । যার কারনে অনেক রোগীকে পুনরায় এসব ঔষধ সেবন করাতে বাধ্য করে ইত্যাদি ।

যারা ঘুমের ওষুধে আসক্ত হয়ে পড়েন তাদের বেলায় পানি পিপাসা কমে গিয়ে ,শরীরের অন্যান্য ভ্যাগাস নার্ভ সমুহের অচেতনতা বৃদ্ধি পায় ফলে অন্ত্রিক সমসসা সহ শরীরেপানিশূণ্যতাদেখাদিতেপারে, যার জন্য অনেকের কিডনিতে সরাসরি প্রভাবফেলে।

সে কারনেই অনিদ্রায় ভুক্ত ভোগি যারা দীর্ঘদিন ঘুমের ঔষধ সেবন করেন, তাদের ৮০% বেশী সম্বাভনা হেপাটাইটিস, হার্টের অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন, ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস, আই ভি এস, আন্ত্রিক শোল ব্যাদনা সহ অনেক মারাত্মক অসুখে ভোগার ।

 

( ইনসোমনিয়াচিকিৎসায় চিকিৎসকরা নিচের তিনটিপদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন ঃ- Cognitive & Behavioral Treatments for Insomnia) অভ্যাসগত পরিবর্তনের কলাকৌশল জাতীয় চিকিৎসা — ( ২য় পর্বে ) – ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা Medications — ( এই পর্বে ) বিকল্প চিকিৎসা Alternative Medicine ( ভেষজ ও অন্যান্য যৌগ পদ্ধতি ) — এই পর্বে । )

 

 

 

ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা ও সঙ্কেপে অল্প আলোচনা ঃ- Medications

 

বিশ্বে এখন পর্যন্ত ইনসোমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা নিরাময়ে কোন নির্দিষ্ট ঔষধ আবিষ্কৃত হয়নি। আমরা ঘুমের ট্যাবলেট হিসাবে যা সেবন করি, আসলে তা ঘুমের ঔষধ নয়- মুলত ইহা মস্তিষ্কের ক্ষেন্দ্রিয় স্নায়ু তন্ত্রের সেন্সর অনুভূতিকে কে সাময়িক সময় নিস্থেজ করে রাখার ঔষধ । ঘুমের বড়ি সেবন করার কিছুক্ষণ পরি ক্ষেন্দ্রিয় স্নায়ুকে সাময়িক সময়ের জন্য নিস্থেজ করে আর সেই ফাকে নিদ্রায় পতিত হই ।

যাই হউক চিকিৎসকরা সাময়িক নিদ্রাহীনতার অসুখের জন্য যে সকল ঔষধ ব্যাবহার করেন ( তার মধ্যে অচেতন কারক ঔষধ হিসাবে তিনটি স্থর আছে ) তাই তুলে ধরলাম । তবে সুখবর এতটুকু – নতুন ঘুম পাড়ানোর যে ঔষধ বাহির হয়েছে তার কাজ কবি জসীম উদ্দিনের ( আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা,ফুল তুলিতে যাই ) কবিতার মতই – শর্ত ঔষধ সেবনের পর শুইবার জায়গা নিরব ও অন্ধকার থাকতে হবে , ঔষধ টির সব চেয়ে ভাল দিক ইহা আমাদেরকে নেশায় অভ্যস্থ করবেনা ( বিস্তারিত নিচে দেওয়া আছে )

 

 

বারবিচুরেট ( Barbiturates) সম্পূর্ণ দেহ অবশকারি ঔষধ ঃ- যে সকল ঔষধ সারা কে অচেতন করে রাখে- ( যা সার্জনরা অপারেশন করার কাজে এ্য।নেস্থেটিক হিসাবে ব্যাবহার করেন )

 

 

তীব্র এন্টি-সাইকোটিক ও ঘুমের ঔষধ ঃ

( Quetiapine বা GABA receptors in the brain and nervous system ) ঃ যেমন, মরফিন প্যাথডিন ইত্যাদি । যা মারাত্মক খিচুনি, দ্বিতীয় শ্রেণীর মস্তিষ্কের বিকৃতি, মৃগী রোগ , ক্যানসারের বিষাক্ত ব্যাথা ইত্যাদি মারাত্মক ধরনের স্নায়ুবিক ব্যাথায় ব্যাবহার করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা ।

 

 

 

সাধারন ঘুমের ঔষধ ( ইহা ও আবার দুই ধরনের ) benzodiazepineঃ

এই গ্রোফটির ঔষধ চিকিৎসকরা ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রার জন্য দিয়ে থাকেন ( ব্যাহারের মেয়াদ অবশ্যই ১৪ থেকে ২৭ দিনের উপরে কোন অবস্থাতেই , চিকিৎসকরা পুনপরিক্ষা ছাড়া দেওয়ার কথা নয় ) । যাকে আমরা সবাই ঘুমের বড়ি ( সিডক্সকিন ইত্যাদি ট্রেড নামে জানি ) হিসাবে জানি । এর মধ্যে ও দীর্ঘ স্থায়ী হিসাবে কাজ করে (diazepam, flurazepam, clonazepam, clonazepam) এবং মধ্যম ধরনের হিসাবে কাজ করে ( lorazepam, oxazepam, estazolam ইত্যাদি গ্রোফের ) দুটি আলাদা স্থরের ঔষধ ব্যাবহার করে থাকেন চিকিৎসকরা ।

শত কিছুর পর ও এই ঔষধ টি অন্যান্য ঔষধের চাইতে কিছুটা নিরাপদ যদিও সাময়িক নিদ্রাহিনতা অসুখে ব্যাবহার করা হয় , বা সাময়িক ব্যাবহারে তেমন ক্ষতি হওয়ার ভয় নেই – তবে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যাবহারে মারাত্মক মানসিক অসুখ সহ অন্যান্য সমসসা দেখা দিবেই । সে কারনেই পৃথিবীর সর্বত্র হিপ্নটিক গ্রোফের ঔষধ সমুহ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি ও ব্যাবহার সম্পূর্ণ অবৈধ ।

 

প্রাথমিক ভাবে ঘুমের ঔষধের পার্স-প্রতিক্রিয়া হিসাবে যা দেখা দিতে পারে ঃ-

ঝিমনিলাগা, মাথা ঘোরা, দূর্বলতা, মাথার ভিতর শূন্য লাগা, ঘোর লাগা, মুখ শুকিয়ে আসা, বমি বমি ভাব লাগা বা বমি করা, অ্যালার্জি, চোখ ঝাপসা লাগা ইত্যাদি।এসবের কারণে রোগী নিদ্রাহীনতার জন্য যতটা না দেখতে অসুস্থ দেখায় তারচেয়েও বেশী অসুস্থ লাগে ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় – এ ছাড়া যারা মদ পান করেন বা সাথে সর্দি- কাশীর অন্যান্য ঔষধ সেবন করেন তাদের বেলায় ঘুমের ঔষধ ব্যাবহারে এর কার্যকরীতা দ্বিগুণ পার্স প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে । গর্ভবতিদের বেলায় গর্ভস্থ শিশুর জন্য ও মারাত্মক ক্ষতিকারক ।

 

Non-benzodiazepine ঘুমের ঔষধ ঃ-

এই শ্রেণির ঔষধ benzodiazepine এর চাইতে আরেকটু কম পার্স প্রতিক্রিয়া তৈরি করে বিধায় বর্তমানে ইউকে সহ পৃথিবীর সকল দেশের চিকিৎসকরা অনিদ্রা জাতীয় অসুখে খুব বেশী প্রেসক্রিপশন করে থাকেন (Zaleplon, Zolpidem ইত্যাদি নামের গ্রোফ ) । তারপর ও ঔষধ টি নেশাভুক্ত শ্রেণির থাকায় স্বল্প মেয়াদী ব্যাহারের জন্য বলা হয়েছে ( ১- ২৮ দিন ) – এবং বেশী ডোজ ব্যাবহারে benzodiazepine এর মতই পার্স প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে ।

ঘুমের এই ঔষধ সমুহ চিকিৎসকরা অনিদ্রা ছাড়া ও যে কোন ধরনের স্নায়ুবিক ব্যথা বা অন্যান্য সেন্ট্রাল নার্ভের খিচুনি নিবারনে খুব সাবধানতার সাথে ব্যাবহার করে থাকেন এবং উপস্থিত সময়ের জন্য রোগীরা খুব সস্থি পায় ।

 

 

সর্বশেষ নতুন যে ঘুমের ঔষধ তা হল Ramelteon (Rozerem)

সদ্য আবিষ্কৃত অনিদ্রার জন্য সবচেয়ে ভাল ঔষধ হিসাবে Ramelteon (Rozerem) গ্রোফের ঔষধ টি আর ও অনেক নিরাপদ । বিশেষ করে ইহা তেমন নেশায় অভ্যস্থ করেনা বা এর কাজ ও অন্য রকম – ইহা কেন্দ্রিয় স্নায়ু কে নিস্থেজ না করে মস্কিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থি মেলাটনিন নামের এক ধরণের হরমোনের পরিমান বৃদ্ধি করে ঘুম আনতে সহায়তা করে বা এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক হিস্টামিন গ্রোফের ঔষধের মত । ঔষধ টি অন্ধকারে বেশি কার্যকরি বিধায় রোগী ঔষধ সেবন করার পরপর অন্ধকারে ঘুমাতে বলা হয় ।

মেলাটনিন প্রানি ছাড়া কিছু উদ্ভিদে ও পাওয়া যায় ( নিচে জানতে পারবেন ) । ঔষধ টি প্রানি দেহের চামড়া সাদা করার গুণাবলি থাকলে ও চামড়ার রঙ সম্পূর্ণ পরিবতন করতে পারেনা । তবে ইহার প্রধান কাজ হচ্ছে আমাদের শরীরের বডি ক্লক কে নিয়ত্রন করা ও ক্ষেত্র বিশেষ ধীরে ধীরে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে । রক্তের মেলাটনিন বৃদ্ধি পায় ঘুমে যাওয়ার ২ ঘন্টা আগে থেকেই এবং এর পরমিমান ০.১ মিগ্রা থেকে ০.২ মিগ্রাম ( ২৪ ঘন্টায় ) ।

সেই মোতাবেক যাদের ঘুম কম হয় তাদের জন্য চিকিৎসকরা প্রতিদিন ডোজ হিসাবে ঘুমের আগে 0.5mg to ২ mg দেওয়ার সুপারিস করে থাকেন । আরও বিস্তারিত আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিবেন

বিদ্রঃ ( যদিও মেলাটোনিন বৃদ্ধি কারক ঔষধ তৈরি করতে গরুর মুত্রের প্রয়োজন কিন্তু বর্তমানে ল্যাবরেটরিতে সিনথেটিক পর্যায়ে তৈরি করা যায় বিধায় গরুর মূত্রের প্রয়োজন হয়না )

http://www.sleephealthfoundation.org.au/files/pdfs/melatonin.pdf

 

এ ছাড়া কেউ কেউ স্বল্প মেয়াদী ঘুমের জন্য – এন্টি-হিসটামিন (Diphenhydramine) , বিষন্নতাবিরোধী ঔষধ(amitriptyline,

mirtazapine etc) ব্যাবহার করে থাকেন যা নিজের ইচ্ছামত সেবন করা উচিৎ নয়, যদিই বা করতে হয় তা হলে পার্স প্রতিক্রিয়া সমুহ জেনে করলে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ।

 

মদ বা এলকোহল ঃ– যদি ও প্রথম অবস্থায় মদ অনিদ্রা দুর করে বা এন-রেম ঘুমের ৩ ও ৪ নাম্বার স্থরের vivid স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করে কিন্তু রেম স্লিপ কখন ও পূর্ণ করেনা তাই ঘুম না আসার কারনে মদ পান করে অভ্যস্থ হওয়ার পরিনিতি খুবী ভয়ঙ্কর ( বিস্তারিত মদ এবং গাজা পর্বে )

 

 

 

নিউট্রেশনাল – সাপ্লিমেন্টরি বা ভেষজ কিছু সহায়ক প্রমানিত ঔষধ নিম্নে তুলে ধরলাম ৮৭% বেলায় ভাল ফলদায়ক ঃ

 

Coenzyme Q-10 ঃ-

যদি ও উক্ত প্রাকৃতিক ঔষধটি হার্টের অসুখের জন্য বিশেষ করে শিরাধমনী প্রসারণ করতে ভাল ফলদায়ক – তথাপি উক্ত প্রসারনের ফলে ক্ষেন্দ্রিয় স্নায়ু তন্ত্রের হরমোন, এনজাইম ও গ্লকোজ বৃদ্ধি করে বিধায় জাপানীরা ঘুমের প্রশান্তি দায়ক ঘুমের সহায়ক ঔষধ হিসাবে ব্যাবহার করেন বা ভাল ফল ও পেয়ে থাকেন ( Coenzyme Q10, 100 – 200 mg at bedtime )

 

5HTP (Hydroxytryptophan ) ঃ

– ইহা আফ্রিকান উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত অর্গানিক সাপ্লিমেন্টরি ঔষধ – ঔষধটি মস্তিষ্কের সেরোটোনিন নিয়ন্ত্রন ও মেলাটোনিন বৃদ্ধি করে বলে প্রমানিত বিধায় ইনসমোনিয়া রোগীদের জন্য ভাল একটি ঔষধ । ( 50 mg 2 – 3 times daily ) ।Holland & Barrett source —

 

L-theanine

ইহা ও প্রাকৃতিক ভাবে গ্রিন চা পাতা থেকে সংযোজিত একটি ক্যামিকেল পদার্থ । ঘুমের জন্য সরাসরি কাজ না করলে ও নার্ভাস সিস্টেম কে প্রভাবিত করায় ঘুম আনতে সহায়ক বলে প্রমানিত । ( 200 mg 1 – 3 times daily )

 

মেলাটোনিন ট্যাবলেট ঃ

– Melatonin ঔষধ টি অনিদ্রার জন্য এখন পর্যন্ত কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পন্ন সব চেয়ে ভাল ঔষধ ( 1 – ২ mg one hour before bedtime )

সেই হিসাবে যে সকল খাবার মেলাটোনিন বৃদ্ধি করে, সে গুলোর যে কোন একটি নিয়মিত বিচানায় যাওয়ার আগে খাওয়া ভাল – কেননা -চেরি , আনারস , কলা , কমলা, এই ফল সমুহে বেশী মেলাটোনিন উৎপাদন করতে সহায়তা করে ( প্রমাণিত )

যেমন, গবেষণায় দেখানো হয়েছে , যারা ক্রমাগত অনিদ্রায় ভোগেন এবং ঘুমের পিল খান তাদের দেহে প্রয়োজনীয় ভিটামিন (বি কমপ্লেক্স, সি এবং ডি ভিটামিন) এবং মিনারেল (ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম এবং জিঙ্ক) ইত্যাদি ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণ হ্রাস পায় । সে জন্য অনিদ্রাজনিত রোগীদের এই সকল ভিটামিন যোক্ত খাবার অথবা প্রয়োজনে ঔষধ সেবন করা উচিৎ । সেই হিসাবে আলমন্ড , বাদাম দুধ, মিস্টি আলু, ডিম, ডার্ক চকোলেট ইত্যাদি রাতে একটু বেশী খেলে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের জন্য ভাল ঘুম আনতে সহায়তা করে , তবে সরাসরি ঘুমের জন্য কাজ করেনা ।

 

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড জাতীয় খাবার বা ক্যাপসুল ঃ ( such as fish oil, 1 – 2 capsules or 1 tbsp. oil 1 – 3 times daily ) কেন না মাছের তৈল মানসিক ভারসাম্যতা বজায় রাখতে বেশ সহায়তা করে ।

 

 

কাবা-কাবা ঃ

(Piper methysticum– standardized extract, 100 – 250 mg 1 – 3 times daily-) ইহা দক্ষিণ অ্যামেরিকার কয়েকটি দেশে ঔষধের জন্য বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত হয় তবে কাবকাবায় norepinephrineপর্যাপ্ত থাকায় মস্তিষ্কে ডোপামিন প্রচুর উৎপাদন করে সে জন্য ঘুমের ঔষধ হিসাবে ব্যাবহার করা হয় । ভেষজ টি কোন অবস্থায় অন্যান্য হিপ্নটিক ড্রাগস বা মদ পানকারীদের জন্য একি সাথে ব্যাবহারে মারাত্মক তন্দ্রাহিনতা বাড়িয়ে দেয় ।

 

Valerian (Valeriana sp.) জঠামানশি ঃ

যদি ও ভেষজটি খুব সুন্দর ঘুম আনে কিন্তু ভেষজটির কাজ হুবুহু benzodiazepine ( ঘুমের ঔষধ ) ড্রাগসের মত বিধায় দীর্ঘ দিনের ব্যাবহারে নেশায় পরিনত করে , সে জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইহা সেবন করা ঠিক নয় তবে ঔষধ টি অন্তত এক সপ্তাহ বা তার চেয়ে কিছু দিন বেশী সেবন করতে হয়, মাঝে মধ্যে সেবন করলে তেমন কাজ হয়না । অ্যান্টিহিস্টামিনের মত এটি ব্যবহার করলেও পরদিন সকালে এর এফেক্ট থাকে।

( ভারতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যাক্তি পান বা অন্য খাদের সাথে মিশিয়ে মানুষ কে অজ্ঞান করে থাকে ) ( 200 – 400 mg at bedtime, for sleep )

 

আকুপাংচার ( Acupuncture ) ঃ

বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রার জন্য সবচেয়ে ভাল ফল দিতেছে চাইনিজ আকুপাংচার পদ্ধতি । সে জন্য ইউরোপের ঘুম বিশেষজ্ঞরা ভাল অভিজ্ঞ আকুপাংচারিস্টের মাধ্যমে ইনসোমনিয়ার চিকিৎসা নেওয়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন । বিশেষ করে আমার জানা মতে আকুপাংচারের ইয়ার চ্যানেল কে আকুপ্রেসার ও স্টিমুলেটিং করলে ৯৪% ভাল ফল পাওয়া যায় । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্তার জরীপে ও দেখা যায় অনিদ্রার জন্য ৯০% কার্যকরী আকুপাংচার পদ্ধতি । তা ছাড়া বাচ্চা, বৃদ্ধ সকলের জন্যই সমান ভাবে কার্যকর ।

৩য় পর্বে ঃ- – বোবায় ধরা কি ( Sleep paralysis) ? ঘুমের মধ্যে কথা বলা , হরমোন জনিত ঘুমের সমসসা ইত্যাদি থাকবে === ধন্যবাদ

 

 

 

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

ক্যাটাগরি

আপনার অভিমত

shaharparabd on ঘুম – ১ম পর্ব

আর্কাইভ

স্বাস্থ্য

%d bloggers like this: